ঢাকা: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার বলেছেন, পুলিশের জোরালো তৎপরতার ফলে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। পুলিশের সক্রিয় অভিযানের কারণে ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ অনেকাংশে কমে এসেছে।
বুধবার (১১ মার্চ) ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর-২০২৬ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, যাত্রী সাধারণের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখা, ঈদের জামাত সুষ্ঠুভাবে আদায় সংক্রান্ত সমন্বয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএমপি কমিশনার বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে উদ্যাপনের লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পুলিশের গৃহীত পদক্ষেপের পাশাপাশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পর্যায়েও নিরাপত্তা সচেতনতাবোধ তৈরি হতে হবে।
তিনি বলেন, ঈদ উদযাপনকে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে প্রতিটি সরকারি সংস্থাকে আগের চেয়ে আরও বেশি মনোযোগ ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। যাত্রী সাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন লঞ্চঘাট, বাস টার্মিনাল ও রেলওয়ে স্টেশনে পর্যাপ্ত সংখ্যক ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশ, ডিবি, সোয়াট, ডগ স্কোয়াড ও অশ্বারোহী পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য নিরলসভাবে কাজ করছেন। সবার সম্মিলিত সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করতে পারলে ঈদযাত্রার নানা সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।
তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিটি সংস্থার ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন ঈদের নামাজকে ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম আরও জোরদারভাবে পরিচালনা করা হয়।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, সবার আন্তরিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমেই আমরা একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন ঈদ উদযাপন নিশ্চিত করতে পারব।
সমন্বয় সভায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিগণ, পুলিশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটের প্রতিনিধিরা, নৌপরিবহণ অধিদফতর, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ ফেডারেশন, বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতি, বাংলাদেশ ট্রাক চালক শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, লঞ্চ শ্রমিক সমিতি, বিকেএমইএ, বিজিএমইএ, জিএমপি, বিআইডব্লিউটিএ, সড়ক ও জনপথ অধিদফতর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বাস মালিক সমিতি, লঞ্চ মালিক সমিতি, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল সংস্থা ও সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থার প্রতিনিধিরাসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।