Thursday 12 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

যশোরে গ্রামীণফোন কর্মীকে অপহরণের অভিযোগ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১২ মার্চ ২০২৬ ১৫:২১ | আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ ১৫:২৪

আবিদ হোসেন।

যশোর: যশোরে ওষুধ ব্যবসায়ী অপহরণের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আবিদ হোসেন (২৬) নামে গ্রামীণফোনের এক কর্মী অপহরণের শিকার হয়েছেন। অপহরণকারীরা তার পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণও দাবি করেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী কোতয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

আবিদ হোসেন যশোর সদর উপজেলার বলরামপুর গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে। তিনি গ্রামীণফোনের যশোর সদরের ছাতিয়ানতলা অফিসের মার্কেটিং ও সেলস বিভাগে কর্মরত।

আবিদের স্ত্রী মিনি খাতুন জানান, বুধবার (১১ মার্চ) সকালে আবিদ কর্মস্থলের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। দুপুরে ফোন করে জানান, তিনি মধ্যাহ্নভোজের জন্য খাবারের হোটেলে যাচ্ছেন। এরপর থেকেই তার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রাত প্রায় ৮টার দিকে অফিস থেকে জানানো হয় যে, আবিদ দুপুরের খাবারের বিরতিতে গিয়ে আর ফেরেননি।

বিজ্ঞাপন

মিনি খাতুন আরও জানান, রাত ৯টার পর একটি অপরিচিত নম্বর থেকে তার মোবাইলফোনে কল আসে। কল রিসিভ করতেই আবিদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাকে বাঁচানোর আকুতি জানান। এর কিছুক্ষণ পর আবিদের বাবার মোবাইলফোনেও কল দিয়ে বলা হয়, এখনই ১ লাখ টাকা বিকাশে পাঠাতে হবে, তা নাহলে আবিদকে হত্যা করা হবে। অপহরণকারীরা আবিদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও রিচার্জ কার্ড ছিনিয়ে নিয়েছে বলেও জানান তিনি। আবিদের বাবার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরেও বারবার মেসেজ পাঠিয়ে টাকার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনার পর ওই রাতেই সাড়ে ১২টার দিকে মিনি খাতুন যশোর কোতয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এদিকে এই ঘটনায় গ্রামীনফোনের ডিস্ট্রিবিউটর এমকে গ্রুপের প্রতিষ্ঠান আরমান এন্টারপ্রাইজ-২’র সুপারভাইজার ওমর ফারুক কোতয়ালি মডেল থানায় আরও একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করেন, তাদের কর্মী আবিদ হোসেন গত ১১ মার্চ দুপুর ২টার দিকে প্রতিদিনের মতো মার্কেটের বিভিন্ন দোকান থেকে আদায় করা নগদ টাকা, বিক্রিত লোডের টাকা ও রিচার্জ কার্ড বিক্রির প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং অফিসের পাওনা ৮০ হাজার টাকাসহ মোট ৪ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার হিসাব বুঝিয়ে না দিয়ে ‘আসছি’ বলে অফিস থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি আর অফিসে ফেরেননি এবং তার ব্যবহৃত মোবাইলফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, অফিসের টাকা আত্মসাতের জন্য তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

ওমর ফারুক আরও বলেন, আবিদের পরিবারের কাছে যে নম্বর থেকে মুক্তিপণের টাকা চাওয়া হয়েছে সেটি আবিদেরই নম্বর।

যশোর কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহম্মেদ বলেন, ‘এ ঘটনায় পর পর দু’টি অভিযোগ পেয়েছি আমরা। পরিবারের পক্ষ থেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অফিসের পক্ষ থেকে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে এবং ভিকটিমকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।’

উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ যশোর শহরের শংকরপুর এলাকা থেকে ওষুধ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম অপহৃত হন, যার মুক্তিপণ হিসেবে ১ কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল। র‌্যাব সদস্যরা ৯ দিন পর গত ১১ মার্চ রাতে চৌগাছা থেকে তাকে উদ্ধার করে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও এই অপহরণের ঘটনা ঘটল।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর