Friday 27 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রাজনৈতিক কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবদল নেতা কিবরিয়া হত্যা: র‍্যাব

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৭ মার্চ ২০২৬ ১৩:০১

গ্রেফতার হওয়া দুই শুটার লোপন এবং জাহাঙ্গীর হোসেন কাল্লু।

ঢাকা: নিহত যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়ার (৫০) রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা ছিল এবং তার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল ও পল্লবী থানার সভাপতি হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এ নিয়ে তৈরি হয় রাজনৈতিক কোন্দল এবং আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকা মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী মশিউর রহমান মশির ঝুট ব্যাবসা, চাঁদাবাজি এসবে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল কিবরিয়া। আর এসব কারণেই হত্যা করা হয় যুবদলের এই নেতাকে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় র‍্যাব-৪ সফর দফতরে পল্লবীর যুবদল নেতা কিবরিয়া হত্যাকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ব্যাটালিয়নের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাবুদ্দিন কবির এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, যুবদল নেতা কিবরিয়া হত্যায় গুলি করার জন্য তিনজন অংশ নেয়। এর মধ্যে সরাসরি গুলি করা দুই শুটার লোপন (৩৫) এবং জাহাঙ্গীর হোসেন কাল্লুকে (৪০) বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দিবাগত মধ্যরাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা অবৈধভাবে দেশের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু হাদি হত্যার পর সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার হওয়ায় তারা পালাতে পারেনি।

কিলিং মিশনে কতজন অংশ নিয়েছে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, সরাসরি শুট করার জন্য তিনজন ছিলেন। এর মধ্যে জনিকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে। আর এখন দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। কিলিং মিশনে ৬ থেকে ৭ জন ছিল। তবে পর্দার আড়ালে হয়ত আরও কেউ আছে।

তিনি বলেন, মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী মশিউর রহমান মশির সঙ্গে গ্রেফতারদের যোগাযোগ ছিল। মশির ঝুট ব্যাবসা, চাঁদাবাজি এসবে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল কিবরিয়া।

র‌্যাবের প্রেস বিফ্রিং।

কোম্পানি কমান্ডার বলেন, র‍্যাব-৪ ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ফুটেজ এবং আনুষঙ্গিক তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে ছায়া তদন্ত শুরু করে। কিন্তু কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারী শুটাররা ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিল। পলাতক শুটারদের ধরার জন্য র‍্যাব-৪ ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে। একপর্যায়ে র‍্যাব জানতে পারে যে, পলাতক শুটার লোপন ও কাল্লু দেশ ত্যাগ করার জন্য ঢাকায় এসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় র‍্যাব-৪ গতকাল দিবাগত মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে রাজধানীর মিরপুরের ইস্টার্ন হাউজিং এলাকা থেকে লোপন এবং উত্তরা ১৮ সেক্টর, দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে জাহাঙ্গীর হোসেন কাল্লুকে গ্রেফতার করে। লোপনের দেওয়া তথ্যমতে, তার বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ১টি বিদেশি রিভলভার ও ৩ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামিদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রাজনৈতিক কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উক্ত হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। আসামিরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে নিজেদের শনাক্ত করেছে এবং কিলিং মিশনে অংশগ্রহণের কথা স্বীকার করেছে। এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড যাতে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেন হয়। গ্রেফতার আসামিরা পেশাদার শুটার এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজি ও মাদক মামলা রয়েছে।

তিনি জানান, গ্রেফতার হওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, গত ১৮ নভেম্বর চাঞ্চল্যকর গোলাম কিবরিয়া হত্যা মামলার আসামি মো. মনির হোসেন সোহেল পাতা সোহেল (৩০) এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত ও ১৮টি মামলার আসামি সন্ত্রাসী মো. সুজন ওরফে বুকপোড়া সুজনকে (৩৫) গ্রেফতার করেছিল র‍্যাব-৪।

এর আগে, গত বছরের ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় মুখোশধারী তিন সন্ত্রাসী মিরপুর ১২ নম্বরের বি ব্লকে ‘বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারি’ নামের একটি দোকানে ঢুকে খুব কাছ থেকে গুলি করে তাকে হত্যা করে। ঘটনার পর দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যাওয়ার সময় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন এবং দ্রুত না চালানোয় চালককে কোমরে গুলি করে আহত করে।

নিহত যুবদল নেতার স্ত্রী সাবিহা আক্তার দীনা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামি হিসেবে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাত পরিচয়ে রয়েছে আরও সাত থেকে আটজন।

দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, কিবরিয়া দোকানে ঢোকার দু-তিন সেকেন্ডের মধ্যে কয়েকজন দুর্বৃত্ত ভেতরে ঢুকে তাকে গুলি করতে শুরু করে। দুর্বৃত্তদের প্রত্যেকের মাথায় হেলমেট ও মুখে মুখোশ ছিল। কিবরিয়াকে দুজন গুলি করে। এ সময় কিবরিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাদের একজন আরও তিনটি গুলি করে দ্রুত বেরিয়ে যান।

 

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর