ঢাকা: রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসিক এলাকায় একটি বাসায় চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ থানা পুলিশ।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) আরিফা আখতার প্রীতি বিষয়টি জানিয়েছেন।
গ্রেফতাররা হলো- মোসা. রোজিনা আক্তার (৪২), মীম আক্তার (২৩), মো. আল-আমিন (২৩), মো. কাশেম আহাম্মেদ (২৮) এবং মো. নাহিদ (৩৩)। গ্রেফতারের সময় তাদের থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকারের বড় একটি অংশ উদ্ধার করা হয়।
সহকারী পুলিশ কমিশনার বলেন, সোমবার (২৩ মার্চ) লালবাগ থানাধীন আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসিক এলাকায় একটি বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিন সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে গৃহকর্মীর কাজের জন্য গ্রেফতার রোজিনা আক্তার ছুটা বুয়া হিসেবে বাদির বাসায় প্রবেশ করে। কিছুক্ষণ কাজ করার পর সে কাজ অসমাপ্ত রেখে একই ভবনের অন্য ফ্ল্যাটে যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে যায়। পরবর্তীতে বাসায় আর ফিরে না আসায় এবং বিল্ডিয়ের বিভিন্ন বাসায় খোঁজ করেও সন্ধান না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বাদি ও তার স্ত্রীর সন্দেহ হলে তারা বাসার মূল্যবান জিনিসপত্র রাখার স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পাশে রাখা লাগেজের চেইন খোলা অবস্থায় দেখতে পান।
পরে লাগেজ পুরোপুরি খুললে দেখতে পান যে, সেখানে রাখা স্বর্ণালংকারের বক্সটি চুরি হয়েছে। চুরি হওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে ছিল- দুটি গলার চেইন, একটি বেঙ্গল বালা, তিনটি আংটি, দুটি চুড়ি, দুই জোড়া কানের দুল ও একটি লকেটসহ মোট ৯ ভরি আট আনা ওজনের স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা। তিনি বলেন, এ ঘটনায় লালবাগ থানায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আজ শুক্রবার রাজধানীর হাজারীবাগ, খিলক্ষেত ও টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে ৮ ভরি ১২ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেফতারকৃত কাশেম আহাম্মেদের কাছ থেকে লকেটসহ একটি স্বর্ণের চেইন, একটি আংটি ও এক জোড়া কানের দুল এবং নাহিদের কাছ থেকে একটি গলার চেইন, একটি বেঙ্গল বালা, একটি আংটি, দুইটি চুড়ি ও দুই জোড়া কানের দুল উদ্ধার করা হয়।
চুরি হওয়া মোট নয় ভরি আট আনা স্বর্ণালংকারের মধ্যে অধিকাংশই উদ্ধার হয়েছে এবং বাকি স্বর্ণালংকার উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরিফা আখতার প্রীতি বলেন, গ্রেফতারকৃতরা চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।