ঢাকা: এক-এগারো সরকারের আরেক কুশীলব ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে (৬১) গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে ডিবি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে, এদিন ভোরে রাজধানীর মিরপুরের ডিওএইচএস-এর ১২ নম্বর রোডের ৮৬৪ নম্বর বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সূত্র জানায়, গ্রেফতার মো. আফজাল নাছেরের ভাটারা থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা আছে। সেই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
এ ছাড়া ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর প্রগতি সরণির শাহজাদপুর বাঁশতলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বাহাদুর হোসেন মনির। এ ঘটনায় একইবছরের ৩০ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় ইউনাইটেড গ্রুপের প্রধান উপদেষ্টা হাসান মাহমুদ রাজা, চেয়ারম্যান ও এমডি মঈনউদ্দিন হাসান রশিদ ও গ্রুপের কর্মকর্তা কর্নেল (অব.) আফজালের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়। মামলাটি তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ।
জানা গেছে, ২০০৭ সালের জুন থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের ডিজি ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এক-এগারোর সরকারের সময় নির্যাতনের অন্যতম হোতা ছিলেন তিনি। যে স্থানে তারেক রহমানকে নির্যাতন করা হয় সেখানে সশরীর উপস্থিত ছিলেন সাবেক ডিজিএফআই’র এই প্রধান।
অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে এক-এগারোর সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মুখে পড়তে হয় এবং সেসব ঘটনার বর্ণনায় বারবার এসেছে কর্নেল আফজালের নাম। বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে হেনস্তা এবং জোরপূর্বক ভিডিও ধারণের অভিযোগ রয়েছে এই আফজালের বিরুদ্ধে। তাছাড়া সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের ভাইরাল হওয়া ভিডিও ধারণ করে এই আফজাল। ব্যবসায়ী মোসাদ্দেক আলী ফালুর ওপর নির্যাতনেও জড়িত ছিলেন এই সেনা কর্মকর্তা।
আফজাল নাছের বর্তমানে ইউনাইটেড গ্রুপের প্রশাসিক কর্মকর্তা। অভিযোগ আছে তারেক রহমানকে নির্যাতন করেছিল তিনিই মূলত। সর্বশেষ ২০২৪ সালের এপ্রিলে খালেদা জিয়া অসুস্থ হলে ইউনাইটেড হাসপাতালের সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু আফজাল চিকিৎসা দিবে না বলে সরাসরি জানিয়ে দেয় বলেও অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, কর্নেল আফজাল নাছের ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর বরখাস্ত হন। তার বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগে। সেনাবাহিনীর চাকরিতে যোগদান করেন ১৯৮৪ সালের ৪ জুলাই।