কক্সবাজার: কক্সবাজারের মহেশখালীতে প্যারাবন নিধন বন্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে অব্যাহত রয়েছে বন নিধনের ঘটনা। প্রতিদিনই স্কেভেটর দিয়ে প্যারাবন কেটে সেখানে চিংড়ি ঘের করার অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিন ২-৩টি স্কেভেটর দিয়ে উপকূলীয় প্যারাবন কাটা হচ্ছে। মাঝেমধ্যে প্রশাসনের অভিযানে কিছু যন্ত্র জব্দ করা হলেও অল্প সময়ের ব্যবধানে আবারও একইভাবে বন নিধন শুরু হচ্ছে। ফলে প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।
অভিযোগে বলা হচ্ছে, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদ নির্বাচনি ইশতেহারে প্যারাবন রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা সভায় ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেছিলেন, একটি বাইন গাছ কাটলেও দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন।
স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, ‘ঘোষণার পরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। প্রতিনিয়ত প্যারাবন কাটা হচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা চাই দ্রুত এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ হোক এবং মহেশখালী তার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে পাক।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, ‘প্যারাবন নিধনের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছি। যারা অবৈধভাবে প্যারাবন কাটছে, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘খুব শিগগিরই ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। কোনো প্রভাবশালী মহল বা ব্যক্তি এই ক্ষেত্রে ছাড় পাবে না। মাননীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল থাকব। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পুনরায় ম্যানগ্রোভ ও প্যারাবন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
এদিকে পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, প্যারাবন ধ্বংস হলে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। এতে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি বাড়বে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।