ঢাকা: হোয়াটসঅ্যাপে স্বল্প সময়ে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে একটি ভুয়া কোম্পানির নামে অভিনব কৌশলে প্রায় ৮৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারক চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) ইউনিট।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে বিআইডব্লিউটিএ-তে কর্মরত সালেহ আহাম্মদ খান হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে প্রতারক চক্রের সঙ্গে পরিচিত হন। প্রতারকরা ‘ড্রিমপায়ারিং এমসিএস লি.’ নামীয় একটি ভুয়া কোম্পানির পরিচয়ে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করে এবং হোয়াটসঅ্যাপে একটি ভুয়া চুক্তিপত্র পাঠায়। পরবর্তীতে বাদী সরল বিশ্বাসে নিজের সঞ্চয়, অফিসের অর্থ এবং স্ত্রীর স্বর্ণ বন্ধক রেখে নগদ, বিকাশ ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ৮৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪০০ টাকা আসামিদের নিকট প্রদান করেন এবং প্রতারকরা মাসিক উচ্চ লভ্যাংশ প্রদানের আশ্বাস দিয়ে ওই অর্থ আত্মসাৎ করে।
জসীম উদ্দিন খান বলেন, অর্থ আত্মসাতের পর সালেহ আহমেদ আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন ঠিকানায় যেতে বলে বিভ্রান্ত করে। একপর্যায়ে ঢাকার সেগুনবাগিচায় তাদের দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে তিনি নিশ্চিত হন, ওই প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্ব নেই এবং কোম্পানিটি সম্পূর্ণ ভুয়া। পরে তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় মামলা মামলা করেন।
‘সিআইডি তথ্য-প্রযুক্তি বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রাপ্ত অভিযুক্তদের সম্ভাব্য লোকেশন দিনাজপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিরামপুরের মেঘলা ফার্মেসি থেকে মো. মাসুম রানাকে (৩৮) বুধবার রাত ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে এবং মো. শামীম আক্তারকে (৩৬) ওইদিন দিবাগত রাত ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ওই অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। গ্রেফতার আসামিদের আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।