Sunday 14 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চট্টগ্রামে মা-মেয়ে খুন, পুলিশের তদন্তে নতুন ইঙ্গিত!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৪ জুন ২০২৬ ২৩:১১

আনোয়ারায় খুনের শিকার মা এনি বড়ুয়া ও মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম: জেলার আনোয়ারা উপজেলায় মা ও মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনা তদন্তে নতুন ইঙ্গিত পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিহতদের পরিচিত কারও সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা সামনে এসেছে। একই সঙ্গে আর্থিক লেনদেন-সংক্রান্ত বিরোধের সূত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

রোববার (১৪ জুন) দুপুরে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি বড়ুয়া পাড়া এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম বলেন, ঘটনার পর থেকেই একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

আনোয়ারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্য এবং স্থানীয় থানা পুলিশ ঘটনাটির বিভিন্ন দিক নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলের আলামত, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ তথ্য এবং আশপাশের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, নিহতদের পরিচিত কেউ বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে প্রবেশ করে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে। তদন্তে একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ঘিরে সন্দেহের পরিধি তৈরি হয়েছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

এসপি মাসুদ আলম বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা একজন সন্দেহভাজন সম্পর্কে ধারণা পেয়েছি। তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। তবে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা যাবে বলে আমরা আশাবাদী।’

তবে হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্তকারীরা বলছেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পূর্বশত্রুতা এবং আর্থিক লেনদেন সবগুলো বিষয়ই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে আর্থিক বিরোধের একটি সম্ভাব্য সূত্র তদন্তে বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, এনি বড়ুয়ার পরিবার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিল। বাইরে থেকে দেখলে পরিবারটিকে স্বাভাবিক বলেই মনে হতো। তাই এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিস্ময় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বিশেষ করে নিহত প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার সহপাঠীরা ঘটনাস্থলে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। প্রিয়ন্তীর সহপাঠী উম্মে ফাতিমা বলেন, ‘প্রিয়ন্তী খুবই প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি মেয়ে ছিল। তার পরিবারের কোনো সমস্যা ছিল বলে কখনো শুনিনি। আমরা চাই হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করা হোক এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’

তদন্তকারীদের মতে, ঘটনাটির কয়েকটি দিক বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার সম্ভাব্য সময়, হামলাকারীর প্রবেশপথ, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার পরিচয়ের সম্পর্ক এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়গুলো। এসব তথ্য মিলিয়ে ঘটনার পূর্ণ চিত্র বের করার চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চেনামতি বড়ুয়া পাড়া এলাকা থেকে এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার (১৬) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই ঘটনায় আহত হয় পরিবারের পাঁচ বছর বয়সী সদস্য পিয়াস বড়ুয়া।

পুলিশ বলছে, তদন্ত দ্রুত এগোচ্ছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা গেলে এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। বর্তমানে সেই দিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তদন্তকারীরা।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর