ঢাকা: লিবিয়ায় বাংলাদেশিদের জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় এবং মানব পাচারের মাধ্যমে তিন ভাই এবং তাদের প্রতিষ্ঠানিক হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ৩০ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের হিসাবের তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আর এই তিন ভাইয়ের মধ্যে মেজো ভাই রাব্বানী ফরাজীকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে সিআইডি।
বুধবার (১৭ জুন) রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদরদফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সিআইডি জানিয়েছে, গত ১৩ এপ্রিল রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় করা মানিলন্ডারিং মামলায় লিবিয়াভিত্তিক মানব পাচার চক্রের সদস্য রাব্বানী ফরাজীকে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত রাব্বানী ফরাজী এবং তার ছোট ভাই রুবেল ফরাজী আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য।
এই চক্রটির মূলহোতা তাদের বড় ভাই আউয়াল ফরাজী। তারা বাংলাদেশ থেকে ইতালি ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার আগ্রহী ব্যক্তিদের টার্গেট করে নানা প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় পাঠাত। সেখানে পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগীদের অবৈধভাবে আটক রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হতো এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে মুক্তিপণের অর্থ আদায় করা হতো।
সিআইডির তদন্তে আসে, মানব পাচার ও মুক্তিপণের অর্থের মাধ্যমে রাব্বানী ফরাজী এবং তার ভাই রুবেল ফরাজী নিজেদের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানিক হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ৩০ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন করেছেন। অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ দিয়ে তারা খুলনা শহরে বহুতল ভবন নির্মাণসহ বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি অর্জন করেছেন।
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও বিধিমালা অনুসারে আসামিদের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে এবং তাদের নামে অর্জিত স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলেও জানিয়েছে সিআইডি।
এছাড়া, মানবপাচার ও মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের উৎস, অর্থ পাচারের নেটওয়ার্ক, চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সম্পৃক্ততা এবং অবৈধ সম্পদের পরিমাণ নিরূপণের লক্ষ্যে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।