Wednesday 07 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মোহাম্মদপুরে ভেজাল ওষুধ উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৫:৪৫

উদ্ধার হওয়া ভেজাল ওষুধ।

ঢাকা: রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ভেজাল ও অনুমোদনহীন ওষুধ এবং কসমেটিক তৈরির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের ভেজাল ও অনুমোদনহীন ওষুধ, কসমেটিক পণ্য, প্যাকেজিং সামগ্রী এবং ওষুধ তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন—আব্দুল্লাহ আল-মামুন (৪২), মো. সাজু (৩৩) ও মো. সজীব (২৬)। গতকাল মঙ্গলবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুর থানার ঢাকা উদ্যান রোডের ব্লক-সি এলাকার একটি ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযানে বিভিন্ন ধরনের সিরাপ, ক্যাপসুল, শ্যাম্পু, ফেসওয়াশ, হাইজিন ওয়াশ, সাবান, পাউডার ও ট্যাবলেটসহ বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ জব্দ করা হয়। জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১৯২টি KIDZ Omega Liquid 100ml সিরাপ, ১০০ বক্স LACTOFLEX Capsules, ৩০টি Facy GLOW Face Wash, ১৫০টি Detox Plus Shampoo, ৭০টি Pedia Vox Kid Syrup, ৩০০ পাতা Osearc-CD ক্যাপসুল, ৫ কেজি Oriva Hapes সাদা পাউডার, ৫০টি BIOKET Active Shampoo, ৮০০টি KIDICARE Syrup Plus 100ml, ৭০টি ZERO DAN Shampoo, ৪০টি KETCOR-Z Shampoo ও ১০টি Nutramide Syrup। এ ছাড়া ১৫০টি INTA CLEAN HYGIENE WASH-এর খালি মোড়ক, মোড়কবিহীন ৮০ বোতল Hygiene Wash, ৩০০টি PERMIMITE Soap-এর খালি মোড়ক, ৮০টি Spiruva (Spirulina) লিফলেট, ১০০টি ফেসওয়াশের পলিথিন, ৩০০টি লেবেলবিহীন সিরাপের বোতল, ৪০০টি সাদা প্লাস্টিকের কৌটা, ১০০টি লেবেলবিহীন সাদা ট্যাবলেট এবং ৫০০টি সবুজ রঙের খালি ক্যাপসুল সেল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত তিনটি সিলিন্ডার, একটি ফুয়েল লাগানোর মেশিন, দু‘টি ক্যাপসুল ভরার মেশিন, ১০ কেজি ফুয়েল (পলিথিন), ছয়টি ক্যাপসুল ভরার যন্ত্রাংশ এবং দু’টি লেবেল লাগানোর ছাঁচও জব্দ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে শিশুদের ব্যবহারের কয়েকটি সিরাপ ও লিকুইড পণ্য রয়েছে। এসব ভেজাল ও অনুমোদনহীন ওষুধ শিশুদের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।’

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ডিবি জানতে পেরেছে যে অভিযানে পাওয়া কিছু ওষুধ দেশে প্রচলিত নয়। এসব ওষুধ প্রতিবেশী দেশ থেকে আমদানি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নির্দিষ্ট কিছু চিকিৎসকের মাধ্যমে এসব ওষুধ রোগীদের প্রেসক্রাইব করানো হতো কিনা—এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘কোনো চিকিৎসকই ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অনুমোদনহীন ওষুধ প্রেসক্রাইব করতে পারেন না। তদন্তে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের নাম পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চক্রটি এ পর্যন্ত বাজারে কত টাকার ওষুধ সরবরাহ করেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযানে পাওয়া কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এর সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

জব্দ করা ওষুধের মধ্যে বিদেশি ওষুধও রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এসব ওষুধ দেশে বৈধভাবে আমদানি করা হয়েছে কিনা, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। শিশুদের ব্যবহারের কিছু ওষুধও অভিযানে পাওয়া গেছে।’ এর মধ্যে কিডোকেয়ার নামে একটি সিরাপকে নকল হিসেবে উল্লেখ করেছেন ডিবির কর্মকর্তা। এ ছাড়া শিশুদের জন্য ব্যবহৃত কিড ওমেগা ও ভিটামিন ডি৩-সংক্রান্ত কিছু ওষুধও জব্দ করা হয়েছে।

ভেজাল ওষুধ সাধারণ মানুষ কীভাবে শনাক্ত করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবির কর্মকর্তা বলেন, ‘ভেজাল ওষুধ চেনা অত্যন্ত কঠিন। তবে ওষুধের মোড়ক ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্যাকেজিং ভালোভাবে দেখলে অনেক ক্ষেত্রে ভেজাল ওষুধ শনাক্ত করা সম্ভব।’

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মামলার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। চক্রটি কার কাছে ওষুধ বিক্রি করেছে, কোথায় কোথায় সরবরাহ করেছে এবং কোনো ডিসপেনসারি বা বিক্রয়কেন্দ্রে এসব ওষুধ রয়েছে কিনা, এসব বিষয় তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন মাস ধরে এ ব্যবসা করার কথা জানিয়েছেন। যে বাসাটি ব্যবহার করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল, সেটিও প্রায় তিন মাস আগে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল।’

চক্রটির নেটওয়ার্ক সারাদেশে রয়েছে কিনা জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী তাদের কার্যক্রম ঢাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তাদের নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। ভেজাল ওষুধ ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে রাখার অভিযোগে গ্রেফতার তিনজনের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে।’

সারাবাংলা/এমএইচ/এআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর