ইবি: বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন ঠাকুরের মুসলিম নারীর হিজাব ও নিকাবকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নারী শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রধান ফটকে এ মানববন্ধন করেন তারা। এতে বিভিন্ন বিভাগের অর্ধশতাধিক নারী শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের হাতে, ‘লজ্জা আমার অলংকার, নিকাব আমার অধিকার’, ‘নিকাব আমার পরিচয়, অপমান নয়’, ‘ইসলামী সংস্কৃতির অপব্যাখ্যা রুখে দাও’, ‘হিজাব আমার অধিকার’, ‘হিজাব বিদ্বেষ বন্ধ কর, নারীর স্বাধীনতা রক্ষা কর’, ‘নিকাব নয় মানসিকতা বদলাও’, ‘নিকাব আমার সম্মান, নিকাব আমার মুক্তি’, ‘যতই কর কটুক্তি ভাঙবে না এই ভক্তি’, ‘নিকাব নয় জুলুমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ’ ও ‘বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি চলবে না’ ইত্যাদি লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
মানববন্ধনে ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাজমিন রহমান বলেন, ‘বিএনপির একজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা নিকাব নিয়ে নোংরা মন্তব্য করেছেন, তার তীব্র প্রতিবাদ জানাতে আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি। একজন শীর্ষ নেতা হয়ে তিনি কীভাবে বলেন নিকাব পতিতাবৃত্তিদের পোশাক? এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি নিকাবধারী নারীদের চরিত্রে কাদা ছুড়েছেন, যার দায় তাকেই নিতে হবে। আমরা বিএনপির নীতিনির্ধারক ও চেয়ারপার্সনের কাছে স্পষ্ট জবাব চাই এই নেতার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদি দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে জনগণ ধরে নেবে বিএনপি এই বক্তব্য ধারণ করে।’
বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া মাহমুদ মিম বলেন, ‘সুরা নূরের ৩১ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন ‘হে মুমিনগণ, তোমরা তোমাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করো না।’ কেউ যদি পর্দা করে নিজেকে আড়াল করে, তাকে কটূক্তি করা অযৌক্তিক ও নিন্দনীয়। পোশাকের স্বাধীনতা বলতে শুধু জিন্স বা ওয়েস্টার্ন পোশাক নয়; ফ্রক পরা মেয়ে যেমন স্বাধীন, তেমনি বোরকা ও নেকাব পরা মেয়েরও সেই স্বাধীনতা থাকতে হবে। একটি মুসলিম দেশে শুধু ওয়েস্টার্ন কালচারের পোশাককে স্বাধীনতার মানদণ্ড বানানো লজ্জাজনক। বোরকা হোক বা জিন্স নারীর পোশাক নিয়ে বিভাজনমূলক মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।’
উল্লেখ্য, বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমদ ঠাকুর এক গোলটেবিল বৈঠকে নেকাব নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি নেকাবকে ইসলামের পোশাক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং বলেন, ‘ইহুদি নারীরা যখন বেশ্যাবৃত্তি করত অথবা অন্য কোনো নিষিদ্ধ কার্যক্রম করত, তখন নেকাব পড়তো। হিজাব হলো মুসলমানের ড্রেস, বাট নেকাব মুসলমানের ড্রেসই না।’