রংপুর: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ব্রাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের তফসিল ফের স্থগিত ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানা সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এদিকে এমন সিদ্ধান্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমবারের এই নির্বাচনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনায় আইনগত বাধ্যবাধকতা, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার স্বার্থে প্রণীত নির্দেশনার আলোকে দেশের সকল সংগঠনের নির্বাচনি কার্যক্রম ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় রংপুর থেকে পাঠানো পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে ব্রাকসু ও হল শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন-২০২৫-এর চলমান সকল কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
আরও বলা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষের দিকনির্দেশনায় নতুন তফসিল প্রণয়ন করে কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করা হবে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার সহযোগী অধ্যাপক মো. আমির শরিফ বলেন, ‘এটি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছেই শুনতে পারেন। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন প্রজ্ঞাপন জারি করায় তিনি (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) ডিসি এবং নির্বাচন কমিশনের সচিবদের সঙ্গে কথা বলেছেন। নির্বাচন-সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রমে সমস্যা বা অপ্রীতিকর কিছু ঘটনা হলে এর দায়ভার কে নেবে। এ জন্যই এই সিদ্ধান্ত।’
ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. মাসুদ রানাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
উল্লেখ্য, ব্রাকসু নির্বাচনের এখন পর্যন্ত চারবার তফসিল পরিবর্তন করে পাঁচটি তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। বারবার তারিখ পেছানোর পর সর্বশেষ গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) পঞ্চম তফসিল ঘোষণা করা হয়, যাতে ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের কারণে এখন তাও স্থগিত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ২০০৮ সাল থেকে এটি প্রথম ছাত্র সংসদ নির্বাচন, কিন্তু ভোটার তালিকার ত্রুটি, প্রধান কমিশনারের পদত্যাগ এবং এখন জাতীয় নির্বাচনের প্রভাবে প্রক্রিয়া বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গত ডিসেম্বরে শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবনে অবস্থান কর্মসূচি করে দ্রুত নির্বাচনের দাবি তোলেন।
এই স্থগিত ঘোষণায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হাস্যরসের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বেরোবি শাখার সভাপতি মো. সুমন সরকার বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে প্রহসনে পরিণত করেছে। জুলাই বিপ্লবের শহিদ আবু সাঈদ ভাইয়ের রক্তের ওপর প্রফেসর শওকাত আলী ভিসি হলেও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বোঝার চেষ্টা করেননি; বরং ফ্যাসিস্ট শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থে কাজ করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আদর্শগত বিশ্বাস থাকতেই পারে, কিন্তু অন্ধবিশ্বাস কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। মনে রাখতে হবে, এটা শহিদ আবু সাঈদের ক্যাম্পাস। ইতিহাস আপনাদের ভূমিকা ভুলে যাবে না। শিক্ষার্থীরা সবকিছুর হিসাব কড়ায়-গন্ডায় বুঝিয়ে দেবে, ইনশাআল্লাহ।’
সুমন সরকার প্রশ্ন তোলেন, ‘এ পর্যন্ত পাঁচবার নির্বাচনের তফসিল পরিবর্তন করা হয়েছে। যদি নির্বাচন দেওয়ার ইচ্ছাই না থাকে, তাহলে এই নাটক কেন? শিক্ষার্থীদের অনশন, সময়, শ্রম, ফরমের টাকা, ডোপটেস্টসহ কত অপচয়! ধিক্কার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও শিক্ষক নামক ওই সকল মেরুদণ্ডহীন প্রাণীদের, যারা শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় না করে একটি গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নে নেমেছেন।’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই স্থগিত জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন গত ১০ জানুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনে দেশের সকল সংগঠনের নির্বাচনি কার্যক্রম ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়, যাতে জাতীয় নির্বাচন প্রভাবমুক্ত থাকে। এই নির্দেশনা অনুসরণ করে বেরোবি প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয়।
উপাচার্য আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের পর দ্রুত প্রক্রিয়া চালু হবে।’