ঢাকা: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ৪৬তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল চলতি জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহেই প্রকাশ করতে যাচ্ছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। তিন ধাপের কঠোর বাছাই প্রক্রিয়া শেষে এখন চূড়ান্ত তালিকায় নাম দেখার অপেক্ষায় আছেন মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীরা।
পিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম সোমবার (১৯ জানুয়ারি) জানিয়েছেন, বিসিএস নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা কমাতে কমিশন বদ্ধপরিকর।
তিনি বলেন, ‘৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল আমরা রেকর্ড সময়ে দিয়েছি। বর্তমানে মৌখিক পরীক্ষা চলছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা, যাতে কয়েক হাজার যোগ্য প্রার্থী দ্রুত কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারেন।’
৪৬তম বিসিএসের পরিসংখ্যান:
৪৬তম বিসিএসের প্রথম ধাপ বা প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নিতে ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৯৮৬ জন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নেন ২ লাখ ৫৪ হাজার ৫৬১ জন। প্রিলিমিনারি বাছাইয়ের পুনর্মূল্যায়িত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ২১ হাজার ৩৯৭ জন প্রার্থী দ্বিতীয় ধাপ অর্থাৎ লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
লিখিত পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে উত্তীর্ণ ব্যক্তিদের মধ্য থেকে কারিগরি ত্রুটি সংশোধনের পর, চূড়ান্তভাবে ৪ হাজার ৫০ জন প্রার্থী তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপ অর্থাৎ মৌখিক পরীক্ষার জন্য মনোনীত হন। বর্তমানে এই ৪ হাজার ৫০ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা চলছে। এই ধাপে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্য থেকেই মেধাতালিকা ও ক্যাডার পছন্দের ভিত্তিতে চূড়ান্ত ৩ হাজার ১৪০টি পদের জন্য চাকরিপ্রার্থীদের সুপারিশ করা হবে।
কোন ক্যাডারে কত নিয়োগ?
এই বিসিএসের মাধ্যমে মোট ৩ হাজার ১৪০টি পদে ক্যাডার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল পিএসসি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হবে স্বাস্থ্য ক্যাডারে, সহকারী সার্জন পদে ১ হাজার ৬৮২ জন এবং সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে ১৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এরপর শিক্ষা ক্যাডারে ৯২০ জন, প্রশাসন ক্যাডারে ২৭৪ জন, পুলিশ ক্যাডারে ৮০ জন এবং পররাষ্ট্র ক্যাডারে ১০ জন নিয়োগ পাবেন। এ ছাড়া অন্যান্য কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারের বিভিন্ন পদেও নিয়োগের সুপারিশ করা হবে।
পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, খাতা মূল্যায়নে আধুনিক ‘সার্কুলার ইভাল্যুশন সিস্টেম’ ব্যবহার করায় এবারের ফলাফল দ্রুত প্রস্তুত করা সম্ভব হয়েছে। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে মেধা ও পছন্দের ভিত্তিতে ৩ হাজার ১৪০ জনকে ক্যাডার পদের জন্য সুপারিশ করা হবে। পিএসসির এই তৎপরতাকে চাকরিপ্রার্থীরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।