ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের ভেতরে ভাসমান দোকানগুলো থেকে ছাত্রদল ও ছাত্রশক্তির নেতাদের চাঁদাবাজির প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে ডাকসু ও হল সংসদের নেতারা। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিল একদল শিক্ষার্থী।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল পাড়া থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয় এবং সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়। এ সময় তারা চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিতে থাকে।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ‘আজকে চাঁদাবাজি ধরা পড়েছে। এটি প্রমাণ করে এমন আরও শত শত চাঁদাবাজি হয়েছে। এই চাঁদাবাজরা টিএসসি, সেন্টাল লাইব্রেরি, নীলক্ষেত, মেট্রোরেলের নিচে থেকে চাঁদাবাজি করে। আমার জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে চেয়েছিলাম ক্যাম্পাসে কোনো চাঁদাবাজি হবে না।’
তিনি বলেন, “তারেক রহমানের যখন বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’। এর পর থেকেই কতগুলো হত্যাকাণ্ড হলো, চাঁদাবাজি হলো, গ্ৰুপে-গ্রুপে মারামারি হলো।’
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনার চাঁদাবাজদের থামান। না হলে ছাত্রলীগকে যেভাবে বিতাড়িত করা হয়েছিল সেভাবে এদেরকেও বিতাড়িত করবে ছাত্রজনতা।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আর কোনো চাঁদাবাজি দেখতে চাই না। অতি দ্রুত এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। অন্যথায়, আমরা ধরে নিব, তারেক রহমান এর সঙ্গে জড়িত।’ এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে চাঁদাবাজদের ছাত্রত্ব বাতিল করার দাবি জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিয়াজুল ইসলাম যুবা বলেন, ‘যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে ডাকসু ও প্রশাসন উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল তখন ছাত্রদলসহ বামপন্থী কিছু মানুষ শিক্ষার্থী সেজে মিছিল করেছিল। আজ তাদের চাঁদাবাজি করতে দেখা যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের হাতে তুলে দিবে হবে। একইসঙ্গে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করবে। প্রশাসন যদি ব্যবস্থা গ্ৰহণ না করে, তাহলে যত ধরণের নৈতিক প্রতিরোধ আছে গড়ে তুলব।’
এ সময় বিক্ষোভকারীরা পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে প্রশাসন থেকে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্ৰহণ করার জন্য স্বারকলিপি দেওয়ার কথা জানান।