Monday 26 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের পক্ষ-বিপক্ষে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:১০ | আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:১১

ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন।

রংপুর: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্র সংসদ নির্বাচন (ব্রাকসু) বিলম্ব এবং প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপাচার্য এবং রেজিস্ট্রারের পক্ষ–বিপক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির (শিবির)এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (ছাত্রদল) সমর্থিত শিক্ষার্থীরা।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে শিবির সমর্থিত শিক্ষার্থীরা এবং বিকেলে ছাত্রদল সমর্থিত শিক্ষার্থী আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এই পৃথক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। যা ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগগুলোকে নতুন করে আলোড়িত করেছে।

বিজ্ঞাপন

ছাত্রশিবিরের সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য মো. শওকত আলীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও ভর্তি পরীক্ষার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়। অন্যদিকে ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলনে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে দায়িত্ব পালন, উপাচার্যের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত’ সংগঠনের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগ করা হয়েছে।

শিবির সমর্থিত ‘বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী’ ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী এবং শিবির সমর্থিত বেরোবি শিক্ষার্থী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী মেহেদী হাসান উপাচার্যের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের এক বছরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা হতাশ ও ক্ষুব্ধ। ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও নির্বাচন কমিশন পরিবর্তন, ভোটার তালিকার ত্রুটি এবং বিভিন্ন অজুহাতে বিলম্ব করা হয়েছে। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের অজুহাতে নির্বাচন কার্যত বাতিল করা হয়েছে।

মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, সম্প্রতি রেজিস্ট্রারসহ ২৬টি পদে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে পূর্ববর্তী সময়ে অনৈতিক প্রক্রিয়ায় নিয়োগপ্রাপ্ত ও ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পদোন্নতি পাওয়া ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের অর্থের বড় অংশ যথাযথভাবে জমা না দিয়ে ভাগাভাগি করা হচ্ছে।

শহিদ আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতীত প্রশাসনের অনিয়ম ও অন্যায়ের বিচারে উপাচার্য ব্যর্থ। বাজেট আত্মসাৎ এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অবৈধ নিয়োগ তদন্তে একাধিক কমিটি হলেও দৃশ্যমান ফল পাওয়া যায়নি। এসব অনিয়মের বিষয়ে ইউজিসির হস্তক্ষেপ কামনা করে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

পালটা সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের সহসভাপতি তুহিন রানা উপাচার্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ‘অপপ্রচার’ বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া একাধিক কর্মকর্তা গুপ্ত গোষ্ঠীর সহযোগিতায় উসকানিমূলক ও দলীয় কর্মকাণ্ডে জড়িত। রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে গোপন বৈঠক ও অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ছাত্র সংসদ নির্বাচন শিক্ষার্থীদের দাবি হলেও রেজিস্ট্রারের গাফিলতির কারণে ভোটার তালিকার ত্রুটি দেখিয়ে নির্বাচন হয়নি।

তুহিন রানা অভিযোগ করেন, রেজিস্ট্রার অবৈধ নিয়োগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছেন এবং একটি গুপ্ত গোষ্ঠীর সাথে যোগসাজশে অরাজকতা সৃষ্টি করছেন। আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সহযোগিতার পরিবর্তে অসহযোগিতা করেছেন রেজিস্ট্রার, যার ফলে আসামিরা গ্রেফতার হয়নি। প্রতিটি তদন্ত কমিটিতে খেয়ালখুশি মতো প্রতিবেদন জমা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারসাম্য নষ্ট করছেন তিনি। বিভিন্ন গোপন রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে প্রকাশ্যে বৈঠক করছেন। এ ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ছাত্রদলের দাবি, উপাচার্যের হাতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু রেজিস্ট্রার ও গুপ্ত গোষ্ঠীর অসহযোগিতায় অগ্রগতি ব্যাহত।

এসব অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য ড. শওকাত আলী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরে তিনি যে উন্নয়ন করেছেন, তা অতীতের কোনো উপাচার্য করতে পারেননি। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পক্ষে তিনি নিজেই অবস্থান নিয়েছেন, তবে নির্বাচন বিলম্বের জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে দায়ী নন। কর্মকর্তা নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর আগেই অনিয়মের অভিযোগ তোলা ভিত্তিহীন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮তম সিন্ডিকেট সভায় ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। উপাচার্যও বিষয়টি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন, কিন্তু গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন সেই সিদ্ধান্তকে অমান্য করছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংস্কার আসার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু প্রশাসনিক গাফিলতি এবং ছত্রছায়ায় বারবার বিনষ্ট হয়েছে। এমতাবস্থায়, দুটি ছাত্র সংগঠনের পালটাপালটি সংবাদ সম্মেলন ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির শঙ্কা তৈরি করেছে।

বেরোবিতে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর সক্রিয়তা নিয়ে অতীতে অভিযোগ উঠেছে। গত বছর জুলাইতে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় উপাচার্যের কড়া বার্তা দেওয়া হয়। সাবেক উপাচার্যদের আমলে নিয়োগ দুর্নীতি ও জাল সনদের অভিযোগে দুদকের অভিযান হয়েছে, যার ফলে কয়েকজন কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। এছাড়া, নারী শিক্ষার্থী হেনস্তার ঘটনায় ছাত্রদল কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ব্রাকসু নির্বাচন স্থগিতের পর শিবির সভাপতির ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

বিজ্ঞাপন

আজ ঢাকার আবহাওয়া থাকবে শুষ্ক
২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪৭

আরো

সম্পর্কিত খবর