Tuesday 27 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি ইবি ছাত্রদল আহ্বায়কের

ইবি করেসপন্ডেন্ট
২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৩৫ | আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৩৬

ইবি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন চত্বরে সাজিদ হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধনে এমন দাবি জানান তিনি।

তবে প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক কোন সিদ্ধান্ত নয় বলে জানিয়েছেন শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ। তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানান। এছাড়া মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী অন্য সংগঠনগুলোও প্রক্টরের পদত্যাগ দাবির সঙ্গে একমত নয় বলে জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

ক্যাম্পাস সূত্রে, সাজিদ হত্যার বিচার দাবি নিয়ে শিক্ষার্থীদের আয়োজিত মানববন্ধনে প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করেন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ। এছাড়া প্রক্টর যদি পদত্যাগ না করেন, তাহলে প্রশাসন কর্তৃক তাকে অপসারণ করতে হবে; অন্যথায় বুধবার (২৭ জানুয়ারি) উপাচার্য কার্যালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারিও দেন সাহেদ। সাহেদের দেওয়া এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কসহ মানবন্ধনে অংশ নেওয়া অন্যান্য ছাত্রসংগঠনগুলো বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, ছাত্রদলের আহ্বায়ক যে বক্তব্য দিয়েছেন এটা তার ব্যক্তিগত বক্তব্য। এ বক্তব্যের সঙ্গে আমাদের কোন সম্পর্ক নাই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি একান্তই ছাত্রদল আহ্বায়কের ব্যক্তিগত। আমরা এই দাবির সাথে একমত না। আমরা সাজিদ হত্যার বিচার চাই। কোন অদৃশ্যবলে বিচার আটকে আছে তার উদঘাটন চাই।

মানববন্ধনের আয়োজক বোরহান উদ্দিন বলেন, আমি প্রক্টরের পদত্যাগের দাবির সঙ্গে একমত না। শুধু প্রক্টরের পদত্যাগ চেয়ে লাভ নাই, চাইলে পুরো প্রশাসনের পদত্যাগ চাইতে হবে। তাছাড়া আজকে আমাকে প্রোগ্রামের আয়োজক হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তবে আমি প্রোগ্রামের আয়োজক ছিলাম না। আমি শুধু প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছি।

ইবি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সহ-সমন্বয়ক তানভীর মাহমুদ মন্ডল বলেন, ছাত্রদলের আহ্বায়ক যে বক্তব্য দিয়েছে এটার সাথে আমরা একমত নই। এটা ছাত্রদলের বক্তব্য, আমাদের নয়। আমি ব্যক্তিগত তাড়না থেকে সাজিদ হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলনে গিয়েছি, তবে আয়োজক কারা জানি না।

শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারির সিদ্ধান্তই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত। সাহেদ আহমেদের বক্তব্যের সঙ্গে আমি একমত। আমরা এ সিদ্ধান্তের বিষয় নিয়ে বসেছিলাম, তখন আনোয়ার পারভেজ ছিল না। আনোয়ার পারভেজকে ডাকাও হয়নি। আজকের মানববন্ধনের প্রধান ছিল বোরহান। তবে বোরহান যদি অস্বীকার করে থাকে, তাহলে এ বিষয়ে আমি অবগত নই।

এ বিষয়ে জানার জন্য শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদকে একাধিকবার কল দিয়েও পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহের সিসি ক্যামেরা মনিটরিং সিস্টেম আইসিটি সেল থেকে প্রক্টর অফিসে স্থাপনের বিষয়ে ১৫ জুলাই চিঠি ইস্যু করা হলেও আমরা চিঠি পেয়েছি ১৮ জুলাই। এছাড়া এখনো আইসিটি সেল মনিটরিং সিস্টেম প্রক্টর অফিসকে বুঝিয়ে দেয়নি। হলের সিসিটিভি ফুটেজ গায়েবের দায় হল প্রভোস্টের। সাজিদ ইস্যুতে সিআইডিকে আমার দফতর থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হচ্ছে। আমি সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করছি। শিক্ষার্থীরা আমাকে না চাইলে এক মুহূর্তও এ পদে থাকবো না।

উল্লেখ্য, গতবছর ১৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সংলগ্ন পুকুর থেকে আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ৩ আগস্ট ভিসেরা রিপোর্টে দেওয়া হয়। রিপোর্টে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ ছিল। এ ঘটনার পর থেকে নিরাপদ ক্যাম্পাস ও সাজিদের হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর