Monday 02 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রাবিতে গণভোট-২৬ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা

রাবি করেসপন্ডেন্ট
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:০৬ | আপডেট: ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:১৬

গণভোট-২৬ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক সভা রাবিতে।

রাবি: জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গণতন্ত্র ও নাগরিক ভোটাধিকার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসন ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের উদ্যোগে ‘গণভোট-২০২৬ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জোরদার, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিতকরণ এবং তরুণ ভোটারদের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এ সময় বাংলাদেশ মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে এখন আমাদের স্পষ্ট হতে হবে আমরা কী চাই এবং কীভাবে চাই। একটি সুন্দর ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে হলে সর্বোচ্চ পর্যায়ে কার্যকর রাষ্ট্রীয় কাঠামো বাস্তবায়ন জরুরি। স্বৈরাচারী শাসনামলে গুম, খুন, আয়নাঘর ও ভয়াবহ দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যক্তিগত মালিকানায় পরিণত হয়েছিলো। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সড়কসহ সব খাতে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হয়েছেন। এই দেশ যদি সবার না হয়, তবে কখনোই একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়া সম্ভব নয়। হাউজিং কোম্পানি ও নদী ভরাটের কারণে ইতোমধ্যে প্রায় ৫০০টি নদী হারিয়ে গেছে যা আমাদের দেশের জন্য হুমকিস্বরুপ।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘দেশ পরিবর্তনে গণভোটে ‘হ্যাঁ ভোট’ বাস্তবায়ন অপরিহার্য। আমরা এমন রাষ্ট্র চাই না, যেখানে প্রতিবাদ করলে গুম বা হয়রানির শিকার হতে হয়। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়াই আমাদের লক্ষ্য।’

সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকিব বলেন, ‘আমি ভোট দিতে যাব মূলত গণভোটে ‘হ্যাঁ ভোট’ দেওয়ার জন্য। আমাদের হাজারো সন্তানের রক্তের বিনিময়ে আজকের এই নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে। তাদের কথা স্মরণ করে আমরা যতটুকু করতে পারি তার মধ্যে একটি হলো গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দেওয়া। আমরা যদি ২৪-এর জুলাই ও আগস্ট-এর কথা স্মরণ করি, তাহলে এটাকে সামনে নিয়ে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটাই হচ্ছে এই গণভোটের প্রস্তুতি। গণভোটের কোনো মার্কা নেই, আমার নিজের মনের গভীরে একটা গণভোটের মার্কা আছে। সেই মার্কা হলো লাল যা আমাদের সন্তানদের রক্তের চিহ্ন। কাজেই ‘হ্যাঁ’ ভোট মানেই হলো আমাদের সন্তানদের রক্তের ঋণ শোধ করা।’

এছাড়াও তিনি বলেন, ‘১২ তারিখের নির্বাচনে আমরা প্রবল উত্তেজনা দেখতে পাই, এই রাষ্ট্রে কিছু-কিছু মানুষ বিদ্যমান ব্যবস্থাকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে নিতে চায়। এতে কোনো সন্দেহ নেই, বহু আলামত রয়েছে। আমরা ভুলে যাই যে বাংলাদেশে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে। অনেকের প্রবল চেষ্টা থাকতে পারে আগের তরিকায় রাষ্ট্র পরিচালনা করার। কিন্তু আমি লিখে দিতে পারি যে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে।’

উপাচার্য আরও বলেন, ‘তরুণ সমাজ এবং বাংলাদেশের আপামর মানুষের যে বড় ধরনের দুর্বলতা ছিল সেটা ভেঙে গেছে। এরা এখন আর কোনো কিছু ভয় পায় না। যারা ভয় পায় না, তাদেরকে এই আতঙ্কজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে শাসন করবেন এটা দুঃস্বপ্ন ছাড়া কিছু না। এই দুঃস্বপ্ন যদি কোনো রাজনৈতিক দলের ভিতরে থাকে, তাহলে এটা তাদের ত্যাগ করতে হবে। ২৪-এর জুলাই বিপ্লবের পর যে পরিবর্তন হয়েছে সেটা হলো আগের প্রেক্ষাপট পাল্টে গেছে।’

এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। এছাড়া রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১০টি পাবলিক এবং ১১টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। আরও উপস্থিত ছিলেন জুলাই আন্দোলনে আহত যোদ্ধারা এবং শহীদদের পরিবার।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর