রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), সিনেট ও হল প্রতিনিধি সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এ সম্মেলন শুরু হয় এবং ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে তা শেষ হয়।
সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি আবাসিক হলের প্রতিনিধি এবং রাকসুর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করে। তারা নিজ নিজ হল ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা, দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরে। আলোচনায় আবাসিক সিট সংকট, হলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, ইন্টারনেট সংযোগ, খাবারের মানোন্নয়ন এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
হল সংসদের প্রতিনিধিরা বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিগুলো প্রশাসনের কাছে সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপন করা এবং সমাধান নিশ্চিত করাই তাদের দায়িত্ব। তারা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সমস্যাগুলোর দ্রুত ও কার্যকর সমাধান দাবি করে।
এ ছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ব্যবস্থাপনা, প্রভোস্ট কাউন্সিলের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি ইসমত আরা বেগম বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, ‘প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহ্বায়কের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে তিন মাস অন্তর দায়িত্ব পরিবর্তন হওয়ায় কোনো বিষয় পুরোপুরি অনুধাবন করার আগেই দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি বা বড় কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।’
হল সংসদের প্রতিনিধিদের উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভিপি-জিএসরা যখন বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে, তখন অনেকক্ষেত্রে হল সংসদের সভাপতির কাছে গেলে তাদের প্রভোস্ট কাউন্সিলে আবেদন করার কথা বলা হয়। অতীতে বিভিন্ন প্রশাসন ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে হল পরিচালনা করেছে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো হলে বিপুল পরিমাণ তহবিল—ধরা যাক ১০০ কোটি টাকা—থাকার কথা বলা হলেও সবসময় আশানুরূপ উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়নি।’
শিক্ষার্থীদের অবকাঠামোগত দাবি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘অনেক শিক্ষার্থী নামাজ রুম ও লাইব্রেরি রুমের আকার ছোট হওয়া এবং জায়গা সংকুলানের অভিযোগ করে। কিন্তু যেহেতু এগুলো নির্দিষ্ট স্থাপনার কাঠামোর মধ্যে অবস্থিত, তাই সরাসরি সম্প্রসারণ সবসময় সম্ভব নয়। তবে বিকল্প চিন্তার সুযোগ রয়েছে। বড় কক্ষকে ভাগ করে একাধিক ব্যবহারোপযোগী কক্ষ বা চেম্বার তৈরি করা যেতে পারে।’
সম্মেলনের আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহা. ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, ‘রাকসু নির্বাচন ছিল আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবং নির্বাচনের মাধ্যমে তা পূরণ হয়েছে। রাকসুর উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মাঝে নেতৃত্বগুণ তৈরি করা। রাকসুর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে পারবে এবং নানা দাবিদাওয়া তুলতে পারবে। আজকের অনুষ্ঠানে রাকসু আমাদের যে গিফ্ট দিয়েছে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছবি ও জুলাই আন্দোলনের দৃশ্য আছে, সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
সম্মেলনে রাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, ‘রাকসু, সিনেট ও হল সংসদের এইরকম সম্মেলন আগে হয়েছে কিনা জানিনা। আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছিলাম এইরকম একটা সম্মেলন দেখতে। তবে এই সম্মেলনটা আমি নির্বাচনের এক মাস পরই করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি। আমাদের কাজগুলো একটু দেরিতে হলেও হচ্ছে, এজন্য শুকরিয়া আদায় করা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ভাবি, আমরা অনেক কিছু করে ফেলব। কিন্তু সবার যদি সহযোগিতাপূর্ণ অবস্থান না থাকে, তাহলে কোনোকিছু বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। এখানে প্রভোস্ট কাউন্সিলের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ এসেছে। আমি বলব, প্রভোস্ট কাউন্সিল ও প্রভোস্টদেরকে তাদের কাজ সুন্দরভাবে করতে দেওয়া উচিত। আমি প্রভোস্টদের বলবো, আপনাদের কাছে যে বাজেট আছে সেগুলো প্রকাশ করে দেন। এটা সবারই জানা দরকার।’
উপাচার্য বলেন, ‘আমি এই কথাটা দ্বিতীয়বার শুনতে চাই না যে, রাকসুর সাথে হল সংসদের নেতৃবৃন্দের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এটা কোনো এক্সকিউজই হয় না যে রাকসুর সময় হচ্ছে না হল সংসদের নেতৃবৃন্দের সাথে বসার। সকল নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে আহ্বান থাকবে, মিলেমিশে কাজ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার জন্য।’
উল্লেখ্য, রাকসু গঠনের প্রায় চার মাস পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো রাকসু, সিনেট ও হল প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এমন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। সংশ্লিষ্টরা এটিকে অংশগ্রহণমূলক ছাত্র নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক সংলাপের নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছে।