Thursday 16 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রাবির ‘সি’ ইউনিটের ফলে ত্রুটি, পাশ করেও ফেল কয়েকশত শিক্ষার্থী

রাবি করেসপন্ডেন্ট
১৬ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৪৪ | আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৪৮

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ‘সি’ ইউনিটের অ-বিজ্ঞান শাখার ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে গুরুতর ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে। পাশ নম্বর অর্জন করলেও কয়েকশত শিক্ষার্থীকে ফেল দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতভম্ব ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা প্রকাশিত ফলাফল বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অ-বিজ্ঞান (মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা) শাখার শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শুধু ৪০ নম্বর পেলেই উত্তীর্ণ হওয়ার কথা। তবে ফল প্রকাশের সময় বিজ্ঞান শাখার জন্য নির্ধারিত অতিরিক্ত শর্ত—আবশ্যিক অংশে ২৫ ও ঐচ্ছিক অংশে ১০ নম্বর—অ-বিজ্ঞান শাখার ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে অনেক শিক্ষার্থী পাশ নম্বর পেলেও ফেল দেখানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত বছরের ১৩ নভেম্বর ভর্তি পরীক্ষার শর্তাবলী প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন। ওই শর্ত অনুযায়ী, উভয় শাখায় পাশ নম্বর ৪০ নির্ধারণ করা হয়, তবে অ-বিজ্ঞান শাখার জন্য অতিরিক্ত কোনো শর্ত ছিল না।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২টি অনুষদের ৫৯টি বিভাগ ও দুইটি ইনস্টিটিউটে বিভিন্ন কোটায় ভর্তির সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, শারীরিক প্রতিবন্ধী, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও খেলোয়াড় কোটাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব কোটার আসন প্রায়ই পূরণ হয় না। ফলে কোটাধারী শিক্ষার্থীরা পাশ নম্বর পেলেই ভর্তির সুযোগ পান। তবে এবার ফেল দেখানো শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন কোটার প্রার্থীও রয়েছেন।

পরীক্ষায় ৫৪ দশমিক ৫০ নম্বর পেয়েও ফেল দেখানো হয়েছে হুমায়রা আক্তার লিজাকে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘একজন ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থী হিসেবে কত যে পরিশ্রম করেছি তার ইয়ত্তা নেই। এখনও পর্যন্ত কোথাও ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাইনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সি’ ইউনিটের অ-বিজ্ঞান শাখায় ৪০ নম্বরে পাশ হলেও আমি ৫৪ দশমিক ৫০ পেয়েছি। তবুও আমাকে ফেল দেখানো হয়েছে। আমি সত্যিই অবাক হয়েছি। আমার পাশ হয়েছে জানলে আমি শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে হয়তো এতদিনে ভর্তির সুযোগ পেতাম। কিন্তু এখন আমি কোথায় যাব, কার কাছে অভিযোগ জানাব?’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার সাথে অন্যায় করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আমি চাই পুনরায় রেজাল্ট প্রকাশ করা হোক এবং আমাদের প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হোক।’

আরেক ভুক্তভোগী শেখ সাইমুজ্জামান ৪৬ দশমিক ৫০ নম্বর পেলেও ফেল দেখানো হয়েছে। তার বাবা আকরামুজ্জামান বলেন, ‘আমার ছেলে সাড়ে ছেচল্লিশ পেলেও তাকে ফেল দেখানো হয়েছে। আমার ছেলে প্রফেশনাল ক্রিকেটার। ফলে তার প্লেয়ার কোটা রয়েছে। কিন্তু ফেল করায় তাকে প্লেয়ার কোটার জন্য নির্ধারিত সাক্ষাৎকারে ডাকা হয়নি। আমি চাই, এই ত্রুটিপূর্ণ ফলাফল বাতিল করা হোক।’

৪৪ নম্বর পেলেও ফেল দেখানো হয়েছে মো. ফরহাদ হোসেনকে। তিনি বলেন, ‘আমাকে অবৈধভাবে ফেল করানো হয়েছে। পুনরায় রেজাল্ট প্রকাশ করা হোক। তাতে সবার মঙ্গল হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাছেও এমন অভিযোগ এসেছে। এ বিষয়ে আইসিটি সেন্টার কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট ইউনিটের। তারা এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।’

৪০ নম্বর পেয়েও ফেল দেখানো শিক্ষার্থীর সংখ্যা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এভাবে তো দেখা হয়নি এখনও। তবে এটা কয়েকশত হতে পারে।’

‘সি’ ইউনিটের কো-অর্ডিনেটর ও জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক গোলাম মর্তুজা বলেন, ‘এটা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একটা মিটিং ডাকা হয়েছে। মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত আমরা ইনফর্ম করব।’

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান বলেন, ‘এই বিষয়ে অবগত আছি। আগামী রোববার (১৯ এপ্রিল) এ নিয়ে মিটিং কল করা হয়েছে। সেখানে আমরা একটা সিদ্ধান্ত নেব।’