Friday 01 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জাবিতে নজরুল হলে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ

জাবি করেসপন্ডেন্ট
৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৪৬

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

জাবি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের ১০১৬ নম্বর কক্ষে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (৫৩ ব্যাচ) শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রথম বর্ষের (৫৪ ব্যাচ) শিক্ষার্থীদের অসদাচরণ ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টার সময় হলের ওই কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে হল সংসদ ও জাকসুর প্রতিনিধিরা রুমটিতে অভিযান চালান। এ সময় সেখানে ৫৩ ব্যাচের নয়জন ও ৫৪ ব্যাচের ১২ জনকে উপস্থিত পাওয়া যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাত ১২টার দিকে রুমটি ভিতর থেকে বন্ধ করা হয়। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও চেঁচামেচি করা হচ্ছিল। বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় ৫৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তারা বলে, ‘আমরা আমাদের জুনিয়রদের নিয়ে রুমে মুড়ি পার্টি দিচ্ছিলাম। তাদের সঙ্গে সৌজন্যমূলক কথাবার্তার জন্যই ডাকা হয়েছিল।’

বিজ্ঞাপন

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং জাকসুর তথ্য ও গ্রন্থাগার সম্পাদক লিখন জানান, বুধবার রাত প্রায় ১২টার দিকে তিনি একটি ফোনকল পান; যেখানে এ ঘটনার অভিযোগ জানানো হয়। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত হলে যান। সেখানে কয়েকজন সাংবাদিক ও হল সংসদের দায়িত্বশীল প্রতিনিধি (ভিপি ও জিএস) উপস্থিত ছিলেন এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট স্যারদেরও জানানো হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, রুমে গিয়ে দেখা যায়, ৫৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মোবাইলফোনগুলো বন্ধ অবস্থায় টেবিলের এক পাশে রাখা ছিল এবং জুতাগুলোও ভেতরে রাখা ছিল। সামগ্রিক পরিস্থিতি দেখে তার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়েছে, সেখানে নিয়মবহির্ভূত র‍্যাগিংয়ের মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।

এ ছাড়া জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক ও বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আহসান লাবিব জানান, ঘটনার রাতে প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে তিনি জানতে পারেন যে, নজরুল হলের একটি কক্ষে ৫৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ৫৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের র‍্যাগ দিচ্ছে। বিষয়টি জানার পর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়পক্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ র‍্যাগিংয়ের মতো ঘটনার অভিযোগ করলেও অন্য পক্ষ তা অস্বীকার করে।

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় বিষয়টি হল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। হল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্টদের লিখিত বক্তব্য নিচ্ছে এবং হল সংসদের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এদিকে, হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক ঘটনাটি জানতে পেরে হল ছাত্র সংসদকে তথ্য সংগ্রহ ও উভয় ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মুচলেকা নেওয়ার নির্দেশ দেন।