ঢাকা: তরুণ শিক্ষার্থীদের কোডিং আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সৃজনশীল লড়াইয়ে মেতে উঠেছিল বিইউবিটি ক্যাম্পাস। উৎসবমুখর পরিবেশে শনিবার (২ মে) রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে (বিইউবিটি) অনুষ্ঠিত হলো ‘৩য় বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াড ২০২৬’-এর ঢাকা আঞ্চলিক পর্ব।
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী ৬টি জেলার কয়েক’শ শিক্ষার্থীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনভর এই আয়োজনে প্রাধান্য পেয়েছে প্রোগ্রামিং, গাণিতিক যুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নানামুখী চ্যালেঞ্জ।
শনিবার সকাল ৮টায় ভেন্যু রিপোর্টিং ও নিবন্ধনের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপর শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত কক্ষে আসন গ্রহণ করেন। সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে শুরু হয় ‘এআই কোডিং প্রতিযোগিতা’, যা চলে বেলা ১১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত। পাশাপাশি সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় ‘এআই কুইজ’ প্রতিযোগিতা। এতে শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন।
প্রতিযোগিতা শেষে বেলা ১১টা ১০ মিনিটে শুরু হয় সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। বিজয়ীদের হাতে মেডেল ও সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়। এখান থেকে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা আগামী ১৬ মে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় এআই অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিইউবিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম শওকত আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন- বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুনশি মাহবুবুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইআইটির পরিচালক ও বিডিওএসএন-এর মহাসচিব অধ্যাপক ড. বি এম মাইনুল হোসেন এবং কম্পিউটার সায়েন্স ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অনুষদের ডিন ড. মুহাম্মদ আমিনুর রহমান।
স্বাগত বক্তব্য দেন বিডিওএসএন (BdOSN)-এর সভাপতি মুনির হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিইউবিটির সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান ও রিসার্চ গ্র্যাজুয়েট স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এ বি এম শওকত আলী বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আজ আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন নয়, এটি আমাদের বর্তমানের বাস্তবতা। আজকের এই মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামীর বাংলাদেশকে প্রযুক্তিতে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’ এ সময় তিনি ঘোষণা করেন, এই অলিম্পিয়াডের বিজয়ীরা বিইউবিটিতে ভর্তির ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ ওয়েভার (টিউশন ফি ছাড়) সুবিধা পাবেন। এই ঘোষণায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুনির হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম মেধায় কোনো অংশে পিছিয়ে নেই। এআই অলিম্পিয়াডের মতো প্ল্যাটফর্ম তাদের সম্ভাবনাকে বিকশিত করার সুযোগ দিচ্ছে। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক প্রযুক্তির মঞ্চে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরুক।’
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীব বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতা কেবল পুরস্কার জেতার আয়োজন নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের প্রতি আজীবন অনুরাগ তৈরির একটি প্রয়াস।’
আয়োজক সংস্থা বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) জানায়, ঢাকা আঞ্চলিক পর্বের সফল সমাপ্তি এআই-এর প্রতি শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহেরই প্রতিফলন। এবারের আসরের প্লাটিনাম স্পন্সর ও জাতীয় পর্বের হোস্ট বিইউবিটি। ‘পাওয়ার্ড বাই পার্টনার’ হিসেবে রয়েছে রিভ চ্যাট (REVE Chat)।
গোল্ড স্পন্সর ব্রেইন স্টেশন ২৩, সিলভার স্পন্সর মিলিয়ন এক্স বাংলাদেশ ও ক্রিয়েটিভ আইটি এবং ব্রোঞ্জ স্পন্সর হিসেবে যুক্ত আছে বিটনা। নলেজ পার্টনার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউট (আইআইটি-ডিইউ), টিভি পার্টনার দীপ্ত টিভি।
অন্যান্য সহযোগী হিসেবে আছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি (SPSB), রকমারি ডটকম ও জাদু পিসি।