ঢাকা: দেশের রফতানি বাণিজ্যকে আরও উৎসাহিত করতে ৪৩ ধরনের পণ্য ও সেবা রপ্তানির বিপরীতে দেওয়া নগদ সহায়তা বা প্রণোদনার মেয়াদ চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে চলতি ২০২৫–২৬ পুরো অর্থবছরজুড়েই রফতানিকারকরা এই সুবিধা পাবেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে পাঠানো একটি সার্কুলারে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসের জন্য এই প্রণোদনা ঘোষণা দেওয়া ছিল। এখন রফতানি পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সুবিধার মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হলো। গত বছরের মতো এবারও একই হারে প্রণোদনা বহাল রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, পণ্য ও খাতভেদে রফতানিকারকরা সর্বনিম্ন ০.৩ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ সহায়তা পাবেন। মোট ৪৩টি পণ্য ও সেবা খাত এই সুবিধার আওতায় রয়েছে।
রফতানিমুখী দেশীয় বস্ত্রখাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তা নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ পর্যন্ত। ইউরো অঞ্চলে বস্ত্রখাতের রপ্তানিকারকদের জন্য বিদ্যমান ১.৫০ শতাংশের অতিরিক্ত বিশেষ সহায়তা বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া নতুন পণ্য ও নতুন বাজার সম্প্রসারণে (আমেরিকা, কানাডা, ইইউ ও যুক্তরাজ্য ব্যতীত) বস্ত্রখাতে প্রণোদনা থাকবে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য অতিরিক্ত সুবিধাও দেওয়া হবে।
পাট, চামড়া ও হস্তশিল্প
বৈচিত্র্যকৃত পাটপণ্য রফতানিতে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ, পাটজাত চূড়ান্ত দ্রব্যে ৫ শতাংশ এবং পার্টসুতা রফতানিতে ৩ শতাংশ প্রণোদনা নির্ধারণ করা হয়েছে। চামড়াজাত দ্রব্য রফতানিতে আগের মতো সিলিং সীমা বহাল রেখে ১০ শতাংশ প্রণোদনা থাকবে। হস্তশিল্প ও হাতে তৈরি পণ্য রফতানিতে দেওয়া হবে ৬ শতাংশ প্রণোদনা।
মৎস্য, কৃষি ও খাদ্যপণ্য
হিমায়িত চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ রফতানিতে বরফ আচ্ছাদনের হার অনুযায়ী ১ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত প্রণোদনা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য, আলু, চাল এবং দেশে উৎপাদিত চা রফতানিতে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত প্রণোদনা থাকবে।
শিল্প ও প্রযুক্তি খাত
ফার্মাসিউটিক্যালস, হালকা প্রকৌশল, প্লাস্টিক, সিরামিক, ফার্নিচার, গ্যালভানাইজড শিট, কেমিক্যাল পণ্য, কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স এবং মোটরসাইকেল রফতানিতে ৩ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত প্রণোদনা নির্ধারণ করা হয়েছে। সফটওয়্যার ও আইটিইএস রফতানিতে প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ৬ শতাংশ এবং ব্যক্তি পর্যায়ের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হবে।
বিশেষ অঞ্চলভিত্তিক সুবিধা
বেজা, বেপজা ও হাইটেক পার্কে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানের জন্য এফই সার্কুলার নম্বর ৩৪/২০২১ অনুযায়ী ২ শতাংশ পর্যন্ত রফতানিতে ভর্তুকি বহাল থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, রফতানি প্রণোদনা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সকল শর্ত ও পূর্ববর্তী এফই সার্কুলার/সার্কুলার পত্রের নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে। সংশ্লিষ্ট সকল ব্যাংক ও রফতানিকারকদের বিষয়টি যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।