ঢাকা: এস আলম গ্রুপ ও তাদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি নামীয় খেলাপি বিনিয়োগের বিপরীতে জব্দ করা সম্পত্তির একটি অংশ জামানত হিসেবে গ্রহণের বিষয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ইসলামী ব্যাংক পিএলসি সূত্রে জানা গেছে, অর্থঋণ আদালতে দায়ের করা মামলার প্রেক্ষাপটে এরই মধ্যে জব্দ হওয়া সম্পত্তির প্রায় ১৮১৩৪৯ শতাংশ বিনিয়োগ/সিংগেল এক্সপোজারের বিপরীতে যোগ্য জামানত হিসেবে প্রদর্শনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক সূত্র জানায়, এস আলম গ্রুপের খেলাপি বিনিয়োগ সময়মতো পরিশোধ না হওয়ায় ব্যাংক নিয়মানুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অর্থঋণ আদালতে মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে আদালতে আবেদন করলে বিচারিক প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি সংযুক্তি করা হয়। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, উক্ত সংযুক্তি করা সম্পত্তি কতটুকু জামানত হিসেবে গ্রহণ বা প্রদর্শন করা যাবে-সে বিষয়ে মতামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মতামত চাওয়া হলে বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ তা নির্ধারণ করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ইসলামী ব্যাংক পিএলসি ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের সূত্রে উল্লিখিত মামলাসংক্রান্ত তথ্যের আলোকে বিষয়টি ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২–এ অবহিত করে। পরে, ১২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জব্দকৃত সম্পত্তির ১৮১৩৪৯ শতাংশ যোগ্য জামানত হিসেবে প্রদর্শনের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণকারী বিভাগে নিয়োগপত্রের মাধ্যমে জানানো হয়।
ব্যাংক সূত্র আরও জানায়, বিষয়টি বর্তমানে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পর্যালোচনাধীন রয়েছে। অনুমোদন সাপেক্ষে ইসলামী ব্যাংক, পিএলসি কর্তৃক প্রস্তুতকৃত পত্রের অনুলিপিসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২–এ সংরক্ষণ ও পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরণ করা হবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, যারা বেনামে ঋণ নিয়ে বিদেশে চলে গেছেন, তাদের সম্পদ চিহ্নিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে এই সম্পদগুলো ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।