Thursday 29 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে বাজারভিত্তিক সুদ কার্যকর: গভর্নর

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:০০

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

ঢাকা: সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানতের ওপর চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বাজারভিত্তিক নতুন সুদের হার কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, এক বছর বা তার বেশি মেয়াদের আমানতে সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ছয় মাস থেকে এক বছর মেয়াদে ৯ শতাংশ সুদ দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন গভর্নর।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে সৃষ্ট বিভ্রান্তি ও গুজব দূর করতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

এ সময় তিনি আরও বলেন, বড় অঙ্কের আমানতকারীরা তাদের জমার বিপরীতে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত তাৎক্ষণিক ঋণ নিতে পারবেন।

গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এর পেছনে কোনো বড় গোষ্ঠীর সমর্থন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করেছে। তবে আমরা মনে করি না, এর পেছনে বড় কোনো শক্ত অবস্থান রয়েছে।

গভর্নর আশ্বস্ত করে বলেন, আমানতকারীদের মূল আমানত পুরোপুরি সুরক্ষিত। তবে একসঙ্গে সব টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হলে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। তাই নিয়ন্ত্রিতভাবে টাকা ফেরতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, হঠাৎ করে সব গেট খুলে দিলে ‘স্ট্যাম্পিড উইথড্রল’ হয়ে যেতে পারে। এটা স্লুইস গেটের মতো—আস্তে আস্তে খুলতে হয়। তাই নিয়ন্ত্রিত উত্তোলনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

গভর্নর জানান, শুরুতে ডিমান্ড ডিপোজিট, কারেন্ট অ্যাকাউন্ট এবং স্বল্পমেয়াদি স্কিমের টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়। বর্তমানে—

  • সব ধরনের স্কিম থেকেই টাকা তোলা যাচ্ছে;
  • প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে;
  • এর কম আমানত থাকলে পুরো টাকাই তোলা যাচ্ছে;
  • ফিক্সড ডিপোজিট ও মানি স্কিমের ক্ষেত্রেও উত্তোলন চালু হয়েছে;
  • কম্পিউটার ও সুদ হিসাবসংক্রান্ত জটিলতা অনেকটাই সমাধান হয়েছে।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, যেসব আমানতকারীর বড় অঙ্কের টাকা জমা আছে কিন্তু পুরোটা তুলতে পারছেন না, তাদের জন্য ডিপোজিটের বিপরীতে তাৎক্ষণিক ঋণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘কারও যদি ২০ কোটি টাকা জমা থাকে, তাহলে তিনি চাইলে ৮ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। এতে তার তারল্য সংকট অনেকটাই দূর হবে।’

গভর্নর জানান, রেজোলিউশন প্ল্যান বাস্তবায়নে কিছু গ্যাপ বা অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছিল। সেগুলো দূর করতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিদিন সংশ্লিষ্ট পাঁচটি ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর আরও জানান, পাঁচটি ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেম একীভূত করা সময়সাপেক্ষ কাজ। সব ভেন্ডরের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে। ধাপে ধাপে অনলাইন ব্যাংকিং, আরটিজিএস, এটিএম কার্যক্রম স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর