Sunday 01 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নির্বাচনে অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে মোবাইল ব্যাংকিং সীমিত করার উদ্যোগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:৫৮ | আপডেট: ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:৪৫

ঢাকা: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ উদ্যোগ কার্যকর হলে বিকাশ, রকেট, নগদসহ সব এমএফএস প্ল্যাটফর্মে একবারে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পাঠানো যাবে এবং দিনে মোট লেনদেনের সীমা নির্ধারণ করা হবে ১০ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আগামী ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই সীমাবদ্ধতা কার্যকর থাকতে পারে। একই সময়ের জন্য ব্যাংকের অ্যাপ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত সপ্তাহে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা এলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রজ্ঞাপন জারি করে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও এমএফএস সেবাদাতাদের বিষয়টি জানিয়ে দেবে।

নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা দিয়েছে, যা বাস্তবায়নে প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে চূড়ান্তভাবে লেনদেনের সীমা কিছুটা কমবেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধ অনুযায়ী অর্থ লেনদেন সীমিত করার বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে এবং চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

বর্তমানে বিকাশ, রকেট ও নগদের গ্রাহকেরা দিনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা এবং মাসে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারেন। দৈনিক সর্বোচ্চ ৫০টি এবং মাসে ১০০টি লেনদেনের সুযোগ রয়েছে।

নির্বাচনকালীন সময়ে বিএফআইইউ প্রস্তাব করেছে, একজন গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পাঠাতে পারবেন। প্রতিটি লেনদেন হবে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা এবং দিনে লেনদেন করা যাবে সর্বোচ্চ ১০ বার। এই সীমা ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

বর্তমানে ব্যাংকের অ্যাপ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যক্তি গ্রাহকেরা দৈনিক সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ স্থানান্তর করতে পারেন। প্রতিটি লেনদেনের সীমা তিন লাখ টাকা এবং দিনে সর্বোচ্চ ১০টি লেনদেন করা যায়।

ব্র্যাক ব্যাংকের ‘আস্থা’, সিটি ব্যাংকের ‘সিটিটাচ’, ইসলামী ব্যাংকের ‘সেলফিন’, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ‘নেক্সাস পে’ ও পূবালী ব্যাংকের ‘পাই’ অ্যাপ এই সেবায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নির্বাচনকালীন সময়ে এসব অ্যাপ ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে বিএফআইইউ, যা বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।

এদিকে গত ১১ জানুয়ারি থেকে নগদ অর্থ জমা ও উত্তোলনের ওপর নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো হিসাবে এক দিনে এক বা একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ জমা বা উত্তোলন হলে তা বাধ্যতামূলকভাবে বিএফআইইউকে নগদ লেনদেন প্রতিবেদন (সিটিআর) হিসেবে জানাতে হবে।

পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এসব সিটিআর সাপ্তাহিক ভিত্তিতে দাখিল করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন না দিলে বা ভুল ও অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর