ঢাকা: বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের এক সদস্যের নির্দেশনায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ও পল্লীঋণের তথ্য চেয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে চিঠি পাঠানো হলেও এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। অপ্রচলিত প্রক্রিয়ায় ও স্বল্প নোটিশে তথ্য চাওয়াকে ঘিরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতর ও বাইরে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।
বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) অফিস সময় শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগ থেকে ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানো এক চিঠিতে ব্যাংকগুলোকে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার মধ্যে তথ্য পাঠাতে বলা হয়। তবে ই-মেইলটি পাঠানো হয় সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে এবং সেখানে পরবর্তী কর্মদিবস সকাল ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে তথ্য দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের একজন সদস্যের জরুরি নির্দেশনা অনুসারে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ও পল্লীঋণের মোট আসল, সুদ বা মুনাফা এবং বকেয়া স্থিতির তথ্য ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠাতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, পরিচালনা পর্ষদের একজন সদস্যের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতেই এ তথ্য চাওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ডিরেক্টর স্যারের নির্দেশে ১০ হাজার টাকার নিচের কৃষিঋণের তথ্য চাওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে ই-মেইল করা হয়।’
তিনি আরও জানান, নির্দেশনা দেওয়া পরিচালক হলেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা উন্নয়ন অন্বেষণের চেয়ারপারসন। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘ব্যাংকগুলোর কাছে কৃষিঋণের তথ্য চাওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আমার জানা নেই। আমি খবর নিয়ে দেখব।’
ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তথ্য চাওয়ার ক্ষেত্রে প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। সাধারণত এ ধরনের তথ্য সংগ্রহের আগে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে নির্বাহী পরিচালক, ডেপুটি গভর্নর এবং ক্ষেত্রবিশেষে গভর্নরের কাছে নোট উপস্থাপন করা হয়। তবে এ ঘটনায় তা করা হয়নি বলে জানিয়েছেন একাধিক কর্মকর্তা।
একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতই আমাদের কাছ থেকে তথ্য নেয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে শর্ট নোটিশে ই-মেইলের মাধ্যমে তথ্য চাওয়াটা ব্যতিক্রমি।’
রাষ্ট্রায়ত্ত একটি ব্যাংকের এমডি বলেন, ‘আমাদের ব্যাংকে ১০ হাজার টাকার নিচে কৃষি ঋণগ্রহীতা ৩০ হাজারের বেশি। এসব ঋণের বিপরীতে পাওনা প্রায় ৫০ কোটি টাকা। এমনিতেই আদায় কঠিন, তার ওপর যদি ঋণ মওকুফের কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আসে, তাহলে তা বড় সংকট তৈরি করবে। এগুলো তো আমানতকারীদের টাকা—ইচ্ছামতো মওকুফ করা যায় না।’
ঘটনাটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি-নির্ধারণ প্রক্রিয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।