ঢাকা: সরকারের পালাবদলের পর রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকে শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার ফলে পরিচালন মুনাফা, আমানত ও ঋণ আদায়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এসেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বেশি।
অগ্রণী ব্যাংকের হালনাগাদ নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির পরিচালনা মুনাফা হয়েছিল ২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। তার আগের বছর ২০২৪ সালে মুনাফা ছিল ১ হাজার ৫১২ কোটি টাকা। এক বছরে পরিচালন মুনাফা বেড়েছে ৯৯০ কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি।
একইভাবে ব্যাংকটির ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। আগের বছর এটি ছিল ৯৯ হাজার ২৩২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে আমানত বেড়েছে ১৩ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা।
একই সময়ে ব্যাংকের মোট ঋণ বিতরণ দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা, যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে ছিল ৭৯ হাজার ৩৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ১ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা। তবে খেলাপি ঋণে হার ২০২৪ সালের ৪০ দশমিক ৪৯ শতাংশ থেকে কমে ৩৫ দশমিক ৫২ শতাংশে নেমেছে।
ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারের পালার বদলের পর ব্যাংক খাতের ওপর আস্থা ফেরাতে বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সুশাসন, ব্যাংকিং নিয়মাচার এবং বকেয়া আদায়ে ৩৬০ ডিগ্রি অ্যাংগেলে ঘুরে দাঁড়ায়। অনিয়মের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি মানা বাধ্যতামূলক করে। কোন অপরাধীকে ছাড় দেয় নি। এতে ব্যাংকের সেবার মান এক অনন্যা উচ্চতায় পৌঁছে যায়। যা গ্রাহকের আস্থা ফেরাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। এতে ব্যাংকের ট্রেজারিসহ সকল ব্যবস্থাপনায় আমুল পরিবর্তন সৃষ্টি করে। যার ফরে আমানত বৃদ্ধি, ঋণ আদায়ে উলম্ফন, মুনাফা বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক বানিজ্যের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করে।
ঋণ আদায়ে নতুন রেকর্ড
ব্যাংকের প্রকাশিত আর্থিক তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫ সালে নগদ আদায় হয়েছে ১,০০৯ কোটি টাকা। তার আগের বছর ২০২৪ সালে নগদ আদায় হয়েছিল ৪৪১ কোটি টাকা। এক বছরে নগদ আদায় বেড়েছে ৫৬৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া নগদ, তফসিলভুক্ত ও অবলোপনকৃত ঋণ মিলিয়ে ২০২৫ সালে মোট আদায় হয়েছে ১০ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ১ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে আদায় বেড়েছে ৮ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা।
অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং গ্রাহকসেবায় উদ্ভাবনী উদ্যোগের ফলে ব্যাংকের প্রায় সব সূচকে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি এসেছে। ২০২৫ সালে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ, শ্রেণীকৃত ও অবলোপনকৃত ঋণ থেকে নগদ আদায়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত ২ হাজার ২১৮ কোটি টাকা মুনাফা অর্জিত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০২৬ সালেও টেকসই পরিচালন মুনাফা ধরে রাখার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।’