Sunday 15 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘নমুনা নোট’ ব্যবহার, বাড়ছে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৩৭

ঢাকা: সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে) ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও ও ছবি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এসব কনটেন্টে দেখা যাচ্ছে—আসল ব্যাংক নোটের নকশা ও আকারের অনুরূপ, এমনকি কখনও আসল নোটের চেয়েও বড় আকারের তথাকথিত ‘নমুনা নোট’ ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নিজেদের মার্কেটিং প্রচারণা বা কনটেন্ট তৈরি করছে। পাশাপাশি বাজারে ও উন্মুক্ত স্থানে আসল টাকার আদলে তৈরি কাগজ ব্যবহার করে ব্যবসায়িক প্রচারণার ঘটনাও নজরে এসেছে।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলা‌দেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন্স থে‌কে এক বিজ্ঞপ্তি‌তে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার পাশাপাশি জাল নোটের ঝুঁকি বাড়ায় এবং দেশের সামগ্রিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনাকে অস্থিতিশীল করতে পারে। কারণ, আসল নোট সদৃশ কাগজ বা নকশা ব্যবহার সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে সক্ষম এবং জাল নোট প্রচলনের পথ সুগম করে।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৪৮৯(৩) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি প্রচলিত ব্যাংক নোটের সদৃশ এমন নথি, কাগজ বা বস্তু প্রস্তুত, ব্যবহার বা বিতরণ করে যা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, তবে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

একই সঙ্গে, ডিজিটাল মাধ্যমে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা গুজবমূলক তথ্য প্রচার করলে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৫ অনুযায়ী শাস্তির বিধান রয়েছে। অর্থাৎ, শুধু বাজারে নয়—অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভিডিও, ছবি বা কনটেন্ট প্রকাশের ক্ষেত্রেও আইনি ঝুঁকি বিদ্যমান।

এ প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞরা জনসাধারণকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। জাল নোট প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো, আসল নোট সদৃশ কাগজ বা তথাকথিত নমুনা নোট ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এবং বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারণা না চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম চোখে পড়লে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার কথাও বলা হয়েছে।

সতর্কতা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ড রোধ করা গেলে মুদ্রা ব্যবস্থাপনার স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর