ঢাকা: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করায় প্রতিষ্ঠানটির তিন কর্মকর্তাকে শোকজের পরদিন ঢাকার বাইরে বিভাগীয় অফিসে বদলি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক আদেশে তাদের বদলি করা হয়। এর আগের দিন সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ওই তিন জনকে শোকজ করা হয়েছিল।
বদলির আদেশ পাওয়াদের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীল দলের সাধারণ সম্পাদক ও এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের পরিচালক নওশাদ মোস্তফাকে প্রধান কার্যালয় থেকে বরিশাল অফিস, নীল দল থেকে নির্বাচিত বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহকে রংপুর অফিস এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণকে বগুড়া অফিসে বদলি করা হয়।
এদিকে মঙ্গলাবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, শোকজ করার ঘটনা সত্য। শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটা কমিটি গঠন করবে। কমিটি অভিযুক্তদের বক্তব্য সরাসরি শুনবে। তাদের সেই বক্তব্যও যদি সন্তোষজনক না হয় তাহলে আইনি ধারার সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গতকাল সোমবার গভর্নরের নির্দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ থেকে ওই তিন কর্মকর্তাকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়। সেদিন থেকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আকস্মিকভাবে একটি সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। সেখানে এই তিন কর্মকর্তা বক্তব্য দেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা দুর্বল ব্যাংকের সঙ্গে এক্সিম ও সোস্যাল ইসলামী ব্যাংককে মার্জ করা, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগসহ বিভিন্ন ইস্যুতে গভর্নরকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা দিয়ে বক্তব্য দেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের স্টাফ রেগুলেশন অনুযায়ী কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলন, সভা, সেমিনার, বক্তব্য বা বিবৃতি দেওয়ার আগে গভর্নরের অনুমোদন নিতে হয়। আবার গভর্নরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়ে কোনো আপত্তি থাকলে অভ্যন্তরীণ ফোরামে আলোচনার সুযোগ থাকলেও এভাবে সংবাদ সম্মেলন করা যায় না। অথচ নিয়মবহির্ভূতভাবে ওই সংবাদ সম্মেলন থেকে একই দিন ডাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্ষদ সভার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
সেই সংবাদ সম্মেলনের জের ধরে ওই তিন কর্মকর্তাকে শোকজ নোটিশ প্রদান এবং হীন চরিতার্থ করার জন্য কোনো প্রচলিত নিয়মাচার ছাড়াই ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়। নীল দল মূলত আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিতির কারণে সদ্যগঠিত সরকার সমর্থিতদের পরামর্শে হযরানিমূলক বদল করা হয়।