ঢাকা: রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবাহ এবং বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। টানা প্রায় ৩৯ মাস পর রিজার্ভ ফের ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
মঙ্গলবার(২৪ ফেব্রুয়ারি) দিনশেষে দেশের মোট (গ্রস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সর্বশেষ ২০২২ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যায়। এর পর ধারাবাহিক পতনের মধ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় তা নেমে আসে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে।
রিজার্ভ শক্তিশালী করতে বাজার থেকে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মঙ্গলবার একদিনেই আরও ৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার কেনা হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট কেনা হয়েছে ৫৪৭ কোটি ডলার। ডলার কেনার এই প্রবণতা রিজার্ভ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে হিসাব করলে রিজার্ভের পরিমাণ কিছুটা কম। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুযায়ী বর্তমানে রিজার্ভ ৩০ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার।
২০২৩ সালের জুন থেকে বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভের হিসাব প্রকাশ করছে। তখন রিজার্ভ ছিল ২৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে একসময় বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ কমে দাঁড়ায় ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে।
উল্লেখ্য, দেশের ইতিহাসে ২০২১ সালের আগস্টে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি মাসের ২৩ তারিখ পর্যন্ত দেশে এসেছে ২৫৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছর মোট রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ২৭ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রিজার্ভ বৃদ্ধি টাকার ওপর চাপ কমাবে, আমদানি ব্যয় পরিশোধে সক্ষমতা বাড়াবে, বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে এবং আন্তর্জাতিক আস্থাও বাড়বে। তবে, তারা সতর্ক করে এও বলেছেন, ‘রিজার্ভ টেকসই রাখতে হলে রফতানি আয় বৃদ্ধি ও আমদানি ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সামনের মাসগুলোতে রিজার্ভ আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।