ঢাকা: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক প্রশাসক দায়িত্ব হস্তান্তরের দিন ২৬টি ব্যাংক হিসাবে ১ হাজার ২৬০ কোটি ১৫ লাখ ৫১ হাজার ৩১১ টাকা ৬০ পয়সা থাকার দাবি প্রচার করে নগরবাসীকে বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াস চালিয়েছেন এবং ডিএনসিসির বর্তমান প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছেন নব্য নিযুক্ত প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাত ১২টার দিকে ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জুবায়ের হুসাইন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
ডিএনসিসির শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং বিভিন্ন ঠিকাদারি বিল পরিশোধ করা হয় করপোরেশনের সাধারণ তহবিল থেকে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বর্তমান প্রশাসক দায়িত্ব গ্রহণকালে ডিএনসিসির সাধারণ তহবিলে ক্যাশ স্থিতি ছিল ২৫ কোটি টাকা এবং ফিক্সড ডিপোজিট ছিল বিভিন্ন তহবিলের ৮২৫ কোটি টাকা, যা আপদকালীন দায় মেটানোর জন্য সংরক্ষিত রাখা আছে।’
তিনি জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে ১ জুলাই ২০২৫ সাধারণ তহবিলে ক্যাশ স্থিতি ছিল ৫৯৭ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন তহবিলের ফিক্সড ডিপোজিট ছিল ৮২৫ কোটি টাকা। ১ জুলাই ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয় ১১৭৮ কোটি টাকা, অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৪ হতে ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত মোট ক্যাশ ব্যালেন্স ১৭৭৫ কোটি টাকা। আর সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ দায়িত্ব গ্রহণ করার পর অতি উচ্চাবিলাসী বাজেট প্রণয়ন করে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করে ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত মোট ব্যয় করেছেন ১ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা। ফলে ১ জুলাই ২০২৫ ক্যাশ স্থিতি থাকে ৩৩৬ কোটি টাকা। ১ জুলাই ২০২৫ হতে ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয় ৮২০ কোটি টাকা। আর ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ক্যাশ স্থিতি দাঁড়ায় ১ হাজার ১৫৬ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন
- দুই প্রশাসকের তথ্যে ১২৩৫ কোটি টাকার গড়মিল, কার তথ্য সঠিক?
- সাবেক প্রশাসকের দাবি করা তহবিলের টাকা ব্যাংকে রক্ষিত আছে: শফিকুল ইসলাম
তিনি আরও জানান, সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ পুনরায় অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করে ১ জুলাই ২০২৫ হতে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত এই অল্প সময়ের মধ্যে খরচ করেন ১ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। বর্তমান প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান দায়িত্ব গ্রহণের দিন অর্থাৎ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ক্যাশ স্থিতি থাকে ২৫ কোটি টাকা, যা ডিএনসিসির ইতিহাসে সর্বনিম্ন এবং পূর্বের বিভিন্ন তহবিলের ফিক্সড ডিপোজিট করা ৮২৫ কোটি টাকা। যা আপদকালীন দায় মেটানোর জন্য সংরক্ষিত রাখা আছে।
প্রশাসক বলেন, ‘সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ তঞ্চকতার আশ্রয় গ্রহণ করে ফিক্সড ডিপোজিটের ৮২৫ কোটি টাকা এবং করপোরেশনের বিভিন্ন নির্দিষ্ট তহবিল— যেমন জামানত তহবিল, পেনশন তহবিল, শিক্ষা তহবিল, জিপিএফ (জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড) ইত্যাদি খাতের চলতি বা সঞ্চয়ী হিসাবের ৪৩৫ কোটি টাকা একত্র করে মোট ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকার একটি হিসাব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে নগরবাসীকে বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াস চালিয়েছেন এবং ডিএনসিসির বর্তমান প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা করেছেন মাত্র।’
তিনি জানান, সাবেক প্রশাসক শেষ কর্মদিবসে অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সাধারণ তহবিলে স্থিতির বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে এবং প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে কিনা তা যাচাই না করে তাড়াহুড়ো করে ৩৬টি বিলের নথি অনুমোদন করে গেছেন, যাতে প্রায় ৪২ কোটি টাকা বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাবে।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘বর্তমানে বর্ণিত নথিগুলো যাচাই করার জন্য প্রক্রিয়াধীন আছে। করপোরেশনের আর্থিক অবস্থার বিষয়ে সঠিক তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরা জরুরি। তাই বিষয়টি পরিষ্কার করতে এ ব্যাখ্যা দেওয়া হলো।