ঢাকা: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিএস) ও অতিরিক্ত পরিচালক মো. কামরুল ইসলাম এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালক লিজা ফাহমিদার বিদেশ সফর বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পূর্ব নির্ধারিত সিঙ্গাপুর সফরের ঠিক আগ মুহূর্তে তাদের নাম প্রতিনিধি দলের তালিকা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ-২ থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
গত রোববার (৮ মার্চ) বিভাগটির পরিচালক নাসিমা সুলতানার সইয়ে জারি করা ওই আদেশে বলা হয়, ৯ থেকে ১১ মার্চ সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিতব্য ‘স্ট্র্যাটেজিক থিংকিং অ্যান্ড ডিসিশন মেকিং ফর সেন্ট্রাল ব্যাংক লিডার্স’ শীর্ষক কর্মসূচিতে অংশ নিতে গঠিত ৯ সদস্যের প্রতিনিধি দল থেকে পরিচালক লিজা ফাহমিদা এবং অতিরিক্ত পরিচালক কামরুল ইসলামের নাম প্রত্যাহার করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নথিপত্র অনুযায়ী, ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং ডিপার্টমেন্টের (এফএসএসএস পিডি) পরিচালক লিজা ফাহমিদা এবং তৎকালীন গভর্নরের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা কামরুল ইসলামসহ মোট ৯ কর্মকর্তা এ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অনুমোদন পেয়েছিলেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ-২ তাদের সফরের অনুমোদন দেয়।
তবে কর্মসূচি শুরুর মাত্র একদিন আগে, গত ৮ মার্চ তাদের নাম প্রতিনিধি দল থেকে বাদ দিয়ে নতুন অফিস আদেশ জারি করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, লিজা ফাহমিদা এবং কামরুল ইসলাম সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, কর্মসূচির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকা সত্ত্বেও কামরুল ইসলামের নাম প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিল করা হয়। একই দিন কামরুল ইসলামকে দ্রুত গভর্নর শাখা থেকে সরিয়ে সদরঘাট অফিসে বদলি করা হয়। গভর্নরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার জের ধরেই লিজা ফাহমিদার নামও বিদেশ সফরের তালিকা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
তবে প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা এরইমধ্যে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন এবং নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচালক লিজা ফাহমিদা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী তিনি সিঙ্গাপুর সফরে যাননি। তবে এ বিষয়ে এর বেশি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
অন্যদিকে, কামরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি এবং পাঠানো ক্ষুদে বার্তারও কোনো জবাব দেননি।