ঢাকা: ঈদ মানেই নতুন পোশাকের সঙ্গে নতুন জুতা এই সংস্কৃতি যেন শহরের প্রতিটি মানুষের জীবনযাপনের অংশ হয়ে গেছে। রাজধানীজুড়ে এখন জুতার দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। ব্র্যান্ডের শোরুম থেকে শুরু করে ফুটপাত সবখানেই নতুন ডিজাইন, রঙ আর দামের বৈচিত্র্যে জমজমাট ঈদের বাজার।
ব্র্যান্ড বনাম নন-ব্র্যান্ড
পছন্দে ভিন্নতা শহরের অভিজাত শপিংমলগুলোতে নামী ব্র্যান্ডের জুতার প্রতি আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। মান, টেকসই ব্যবহার আর ফিনিশিংয়ের কারণে অনেকেই ব্র্যান্ডের দিকে ঝুঁকছেন। অন্যদিকে, নন-ব্র্যান্ড বা লোকাল জুতার বাজারও কম যাচ্ছে না। তুলনামূলক কম দামে কাছাকাছি ডিজাইন পাওয়া যায় বলে বড় একটি ক্রেতাগোষ্ঠী ভিড় করছেন এই সেগমেন্টে।
ট্রেন্ডে নতুনত্বএই ঈদে তরুণদের পছন্দে রয়েছে স্নিকার্স, লোফার এবং ক্যাজুয়াল স্যান্ডেল। নারীদের মধ্যে জনপ্রিয় হচ্ছে স্টাইলিশ হিল, স্লিপ-অন ও ফ্ল্যাট জুতা। শিশুদের জন্যও রঙিন ও কার্টুন-থিম জুতার চাহিদা বেশি। অনেক দোকানেই আন্তর্জাতিক ট্রেন্ডের অনুকরণে তৈরি জুতার দেখা মিলছে।
দাম ও মানের সমন্বয়
ব্র্যান্ডের জুতার দাম তুলনামূলক বেশি হলেও মান নিয়ে আস্থা থাকে ক্রেতাদের। অন্যদিকে, নন-ব্র্যান্ড জুতায় কম দামে স্টাইল পাওয়া গেলেও টেকসই নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকে। তবুও বাজেট বিবেচনায় অনেকেই নন-ব্র্যান্ড বেছে নিচ্ছেন।
ফুটপাতের জমজমাট বাজার
ঈদের আগে ফুটপাতের জুতার দোকানগুলোও জমে উঠেছে। এখানে দর কষাকষির সুযোগ থাকায় অনেকেই সাশ্রয়ী মূল্যে পছন্দের জুতা কিনে নিচ্ছেন। বিভিন্ন ডিজাইন ও রঙের সমাহার ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে।

ফুটপাতের জুতার দোকানে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি: সারাবাংলা
ঈদের ড্রেসের সঙ্গে মিলিয়ে নিজের পসন্দের জুতা কিনতে এসেছেন শারমিন। তিনি বলেন, “ঈদে নতুন জুতা না হলে যেন পুরো সাজটাই অসম্পূর্ণ লাগে। আমি সাধারণত ব্র্যান্ডের জুতা কিনি, কারণ টেকসই হয় এবং আরামদায়ক।
এদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষির্থী রুবেল হাসান জানান, “বাজেটের কারণে আমি নন-ব্র্যান্ড জুতাই কিনি। একটু খুঁজলে ভালো মানের জুতা পাওয়া যায়। ঈদের জন্য একবার পরলেই হলো এই চিন্তা থেকেই কেনা।
তানভীর হাসান বলেন, এবারের ঈদে “আমি ট্রেন্ডি কিছু খুঁজছিলাম, স্নিকার্স টাইপ জুতা। ব্র্যান্ডে দাম বেশি, তাই শেষ পর্যন্ত নন-ব্র্যান্ডই ভরসা।
এদিকে শিশুদের জন্য আবার ঈদ এসেছে নানান ধরণের জুতা। বাচ্চার জন্য জুতা কিনতে আসা সুমাইয়া আক্তার বলেন, “বাচ্চাদের জন্য প্রতিবছর নতুন জুতা কিনতে আসি। বাচ্চারা রঙিন আর কার্টুন ডিজাইন পছন্দ করে। তাই যেখানেই ভালো লাগে, সেখান থেকেই কিনে নিই।
বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের সময় জুতার চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। আমরা আগেই নতুন কালেকশন নিয়ে আসি, যাতে ক্রেতাদের পছন্দ অনুযায়ী দিতে পারি। ব্র্যান্ডের জুতার বিক্রিও ভালো, আবার কম দামের জুতার চাহিদাও কম না।”
জুতার দোকানদার রফিকুল ইসলাম বলেন, ক্রেতারা এখন অনেক সচেতন। তারা শুধু ডিজাইন না, আরাম ও টেকসইও দেখে। তাই আমরা মান বজায় রাখার চেষ্টা করি।”
ফুটপাতে জুতা ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, ফুটপাথে বসে জুতা বিক্রি করি। এই সময় ক্রেতা অনেক বেশি থাকে। দরদাম করে বিক্রি করতে হয়, কিন্তু পরিমাণ বেশি হওয়ায় আয়ও ভালো হয়। শেষ মুহূর্তে বিক্রি সবচেয়ে বেশি হয়। তখন ক্রেতারা দ্রুত কিনতে চান, তাই আমরা যতটা সম্ভব দ্রুত সার্ভিস দেওয়ার চেষ্টা করি।
ঈদের কেনাকাটায় জুতা যেন এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ। ব্র্যান্ড হোক বা নন-ব্র্যান্ড সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে এখন উৎসবের আমেজ। সামর্থ্য আর পছন্দ অনুযায়ী নতুন জুতা কিনে ঈদের আনন্দে শামিল হচ্ছেন সবাই।