Saturday 21 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক
খেলাপি ঋণের চাপে তলানীতে সিএসআর ব্যয়

আদিল খান স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২১ মার্চ ২০২৬ ২৩:০৯

ঢাকা: ব্যাংক খাতে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণের চাপ ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এর সরাসরি প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) ব্যয়ে, যা এক বছরের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় নেমে এসেছে ৮০ কোটি টাকায়, যা ২০২৪ সালের একই সময়ে ছিল ১৯৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে এ খাতে ব্যয় কমেছে প্রায় ৫৮.৬৭ শতাংশ। শুধু পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে এই পতনের হার প্রায় ৬৫.৫৬ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, খেলাপি বিনিয়োগের বিপরীতে উচ্চ প্রভিশন সংরক্ষণ, কমে যাওয়া মুনাফা, তারল্য সংকট এবং সতর্ক আর্থিক ব্যবস্থাপনা—এসব কারণেই ব্যাংকগুলো এখন ব্যয় সংকোচন নীতি অনুসরণ করছে। ফলে সামাজিক খাতের ব্যয়ের তুলনায় মূলধন সুরক্ষা এবং মূল ব্যাংকিং কার্যক্রম টিকিয়ে রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

জানতে চাইলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ওমর ফারুক খান বলেন, ‘সিএসআর ব্যয় মূলত ব্যাংকের মুনাফার ওপর নির্ভরশীল। ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমে গেছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই সিএসআর ব্যয়ও কমেছে। কারণ সিএসআর তো লাভ থেকেই করা হয়।’

দীর্ঘদিনের অনিয়ম, বেনামে ঋণ বিতরণ এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে ইসলামী ব্যাংকিং খাতের একটি অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৯০ শতাংশেরও বেশি। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যেখানে ১০ শতাংশের বেশি খেলাপি ঋণ একটি ব্যাংকের জন্য উচ্চ ঝুঁকির সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর ইসলামী শাখা (ইসলামি উইন্ডো) ও ইউনিটগুলোতে সিএসআর ব্যয়ে উলটো প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর যেখানে এ খাতে ব্যয় ছিল মাত্র ৫৫ লাখ টাকা, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৮২ লাখ টাকায়—যা প্রায় ২০৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি। ইসলামি উইন্ডোতেও ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৪৫.৫২ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, নিম্ন ভিত্তি (লো বেস ইফেক্ট) এবং ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের কারণেই এই বৃদ্ধি ঘটেছে।

একটি বেসরকারি ব্যংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এখন সিএসআর নিয়ে চাঁদাবাজি নেই। তাছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বেশিরভাগ ব্যাংকের মুনাফায় ধ্বস নেমেছে। বিশেষ করে ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোর মুনাফা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। আওয়ামী সরকারের আমলে হাসিনাকে খুশি করতে ব্যাংক থেকে চাঁদা সংগ্রহ করে ত্রাণ তহবিলে টাকা দেওয়া হতো, ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করতে বাধ্য হয়ে টাকা দিতে হতো। তাই বছর শেষে সিএসআর খাতের ব্যয় বেশি দেখাত।

এ বিষয়ে মানারাত ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকগুলোর সামগ্রিক আর্থিক অবস্থাই এখন চাপে রয়েছে। ব্যবসা ভালো না হলে সিএসআর ব্যয় করার সুযোগ কোথায়? লাভ কমে গেলে সামাজিক দায়বদ্ধতার খাতেও কাটছাঁট আসবেই । আর কয়েকটি ব্যাংক বর্তমানে মার্জার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যেসব ব্যাংক নিজেদের আর্থিক স্থিতি নিয়েই লড়ছে, তাদের পক্ষে বড় আকারে দান বা সামাজিক ব্যয় চালিয়ে যাওয়া কঠিন।’

বিজ্ঞাপন

আরো

আদিল খান - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর