ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় লেনদেন ভারসাম্য (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট) স্থিতিশীল রাখতে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিদেশি সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ সহায়তা পেতে বিভিন্ন বৈশ্বিক সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে।
রোববার (২৯ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলনকক্ষে অর্থনীতিবিষয়ক সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমান।
তিনি বলেন, লেনদেন ভারসাম্য ঠিক রাখতে প্রয়োজন হলে বিদেশি সহায়তা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে আইএমএফের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা হয়েছে এবং অন্যান্য উৎস থেকেও সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) কাজ করছে।
সভায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে প্রবাসী আয় ও বিদেশে কর্মসংস্থানে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আপাতত রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই। বরং চলতি অর্থবছর শেষে প্রবাসী আয় গত বছরের তুলনায় প্রায় ২ থেকে আড়াই বিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
গভর্নর জানান, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে বর্তমানে তিনটি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে—কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা।
তিনি বলেন, বন্ধ কারখানাগুলো জাতীয় সম্পদ, এগুলো সচল করতে ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।
এ ছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে কাজ চলছে এবং আগামী জুলাই থেকে এ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
সভায় পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার, খেলাপি ঋণের তালিকা প্রকাশ, ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন গভর্নর।