Sunday 18 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

খেলাপির অভিযোগ / চামড়া শিল্পে নতুন ঋণ দিতে অনীহা ব্যাংকগুলোর

আদিল খান
২৯ মে ২০২৬ ২২:২৭
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঢাকা: ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে চামড়া খাতের জন্য ঋণের লক্ষ্য ঠিক করে করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু, ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে বরাবরাই উদাসীনতা দেখায়। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিবছরের ন্যায় এবারও চামড়া খাতে ঋণের লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছে, যার পরিমাণ ২২৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। গতবছর এ লক্ষ্য ছিল ৬৪৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তার মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল মাত্র ৬৫ কোটি টাকা বা ১ শতাংশ।

তার আগের বছর ২০২৪ সালে লক্ষ্য ছিল ৬১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংকগুলো ঋণ দেয় ১২৫ কোটি টাকা। আর ২০২৩ সালে নির্ধারিত ৪৪৩ কোটি টাকার মধ্যে ঋণ বিতরণ করা হয় ২৭০ কোটি টাকা। বর্তমানে চামড়া শিল্পখাতে খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, শিল্পখাতে খেলাপি ঋণের দোহাই দিয়ে ব্যাংক নতুন ঋণ দিতে অনীহা দেখিয়েছে আসছে। তারা ঢালাওভাবে খেলাপির অভিযোগ তুলে ঋণ দিতে অনীহা দেখাচ্ছে। কিন্তু এ খাতে খেলাপি ঋণ এখন পর্যন্ত দেড় হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি এবং খেলাপির হার সামগ্রিক হারের তুলনায় অনেক নিচে।

চামড়া শিল্প মালিকদের অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংক হুকুম দিয়েই বসে থাকে। ঋণ না দিলে নীরব থাকে। অথচ রুগ্ন লিল্পেরে নামে হাজার হাজার কোটি টাকা নীতি সহায়তা দিচ্ছে। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চামড়া খাতে সব মিলিয়ে বিতরণ করা ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ২৮ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে খেলাপির হার ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আনোয়ারুল ইসলাম সারাবাংলাকে জানান, ট্যানারি ব্যবসায়ীদের অনেকে ২ শতাংশ দিয়ে ঋণ নবায়ন করতে চান না। এ ছাড়া প্রক্রিয়াগত জটিলতায় চামড়া খাতের ঋণ বিতরণে লক্ষ্য পূরণ হয় না।

গত ৫ মে বাংলাদেশ ব্যাংকরে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যেসব চামড়া ব্যবসায়ীর আগে পুনঃতফসিল করা ঋণ আছে, তাদের নতুন ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ কিস্তি বা ‘কম্প্রোমাইজড অ্যামাউন্ট’ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা কোরবানির চামড়া কেনার স্বার্থে কিস্তি আদায়ের বাধ্যবাধকতা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত শিথিল করা হয়েছে। ফলে খেলাপি বা পুরোনো ঋণ থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায়ীরা চামড়া কেনার জন্য নতুন মূলধনি ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

চামড়ার আড়তদার বাবুল হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, ‘এ শিল্পের বেশির ভাগ কাঁচা চামড়া সংগৃহীত হয় ঈদুল আজহার সময়। কিন্তু সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রতিবছর প্রায় ৩০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়। জাতীয় প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের পাশাপাশি এ খাত থেকে গত অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে দেড় বিলিয়ন ডলার। এ জন্য চামড়া খাতে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।’

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) তথ্যানুযায়ী, ট্যানারিমালিক ও বাণিজ্যিক রফতানিকারক মিলিয়ে সংগঠনটির সদস্য প্রায় ৭০০। এগুলোর বাইরেও ছোট আকারে অনেক আড়ত রয়েছে, যারা মৌসুমি উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে ঈদুল আজহার সময় চামড়া সংগ্রহ করে।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস ব্যবসায়ী আজম মিয়া সারাবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংকগুলো শুধু ট্যানারিমালিক ও রফতানিকারকদের ঋণ দেয়। কাঁচা চামড়া ব্যবসায় জড়িত অন্যদের ঋণ দেয় না। চাহিদা অনুযায়ী টাকা পেলে চামড়া নষ্ট কম হতো।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সারাবাংলাকে বলেন, ‘চামড়া খাতে এবার ঋণ দেওয়ার লক্ষ্য ছিল ২২৮ কোটি টাকা। শেষ পর্যন্ত কী পরিমাণ ঋণ ছাড় হয়েছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের একটি অংশ ঋণের টাকা ফেরত দিতে চান না। সে কারণে এ খাতে ঋণখেলাপি অনেক বেড়েছে।’

সারাবাংলা/এসএ/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

পুলিশের ১১ কর্মকর্তাকে বদলি
১৮ অক্টোবর ২০২৬ ২২:৩৬

এনআইডি সার্ভার বন্ধ
১৮ অক্টোবর ২০২৬ ২১:২২

আরো

আদিল খান - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর