ঢাকা: দেশের শিল্প ও ব্যবসা খাতকে চাঙা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হলেও এর আওতায় ঋণ বিতরণের গতি এখনও ধীর। এখন পর্যন্ত চারটি স্কিমে বরাদ্দ করা ১১ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৫ হাজার ৬৭৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিতরণ হয়েছে। তবে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর জন্য নেওয়া বিশেষ ঋণ সুবিধায় উদ্যোক্তাদের সাড়া কম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চারটি স্কিমে মোট ১১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে বিতরণ হয়েছে বরাদ্দের প্রায় অর্ধেকের কিছু বেশি।
সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ হয়েছে প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট স্কিমে। এ খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সচল রাখতে এ অর্থায়ন করা হচ্ছে।
কটেজ, ক্ষুদ্র ও মাইক্রো উদ্যোগের জন্যও ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর বিপরীতে বিতরণ হয়েছে ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এ খাতেও বরাদ্দের তুলনায় ঋণ বিতরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
অন্যদিকে, সুষমশীল অর্থনীতি গঠনের লক্ষ্যে নেওয়া বিশেষ স্কিমে বরাদ্দ করা ৫০০ কোটি টাকার পুরোটা বিতরণ করা হয়েছে। তবে স্টার্টআপ ফান্ডে ঋণ বিতরণের পরিমাণ সবচেয়ে কম। এ খাতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও এখন পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে মাত্র ২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো এ প্রণোদনা সুবিধার আওতায় ঋণ পেতে পারে। তবে এর জন্য প্রথম শর্ত হলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে খেলাপিমুক্ত হয়ে ব্যাংকের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক ফিরিয়ে আনতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বর্তমানে যেসব প্রতিষ্ঠান শ্রেণিকৃত বা খেলাপি গ্রাহক হিসেবে রয়েছে, তারা সরাসরি এই সুবিধার আওতায় ঋণ পাবে না। প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে ঋণসংক্রান্ত বিষয় নিষ্পত্তি করে নিয়মিত গ্রাহকের মর্যাদা ফিরে পেতে হবে। এরপর ব্যাংক তাদের আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে পারবে।
তিনি বলেন, খেলাপি গ্রাহকদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃতফসিল ও ঋণ পুনর্গঠনের বিভিন্ন নীতিমালা রয়েছে। এসব নীতিমালার সুবিধা নিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান খেলাপিমুক্ত হতে পারলে ব্যাংকও নতুন করে অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারবে।
আরিফ হোসেন খান আরও বলেন, ব্যাংকের সঙ্গে গ্রাহকের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রণোদনা প্যাকেজের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বন্ধ ও স্থবির শিল্পকারখানায় উৎপাদন ফিরিয়ে আনা, নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং কর্মসংস্থান বাড়ানো। কিন্তু অনেক বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানই ব্যাংকের খেলাপি গ্রাহক হওয়ায় তারা নতুন ঋণের জন্য আবেদন করতে পারছে না।
ফলে শুধু নতুন অর্থায়নের ব্যবস্থা করলেই বন্ধ কারখানা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। এসব প্রতিষ্ঠানের ঋণসংক্রান্ত জটিলতা সমাধান, পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনের সুযোগ কার্যকর করা এবং ব্যাংক ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, খেলাপি ঋণের সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি উৎপাদন ও ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নত করা গেলে প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।