Monday 19 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মানিলন্ডারিং ঠেকাতে বেনামে বীমা পলিসি খোলায় নিষেধাজ্ঞা

স্টাফ করেসপন্ডেট
১৯ অক্টোবর ২০২৬ ২২:৩৪

বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। ফাইল ছবি

ঢাকা: মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বেনামে বা ছদ্মনামে কোনো বীমা পলিসি খোলা যাবে না। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের তালিকাভুক্ত ব্যক্তি, নিষিদ্ধ ঘোষিত গোষ্ঠী বা সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পলিসি খোলা ও পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের সঙ্গে জড়িতদের ক্ষেত্রেও এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৯ অক্টোবর) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশে কার্যরত সব বীমা কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে বিএফআইইউ।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মানিলন্ডারিংয়ের সন্দেহ রয়েছে-এমন জটিল, অস্বাভাবিক ও আপাতদৃষ্টিতে আর্থিকভাবে যৌক্তিক উদ্দেশ্যহীন পলিসির ক্ষেত্রে বিশেষ নজরদারি করতে হবে। মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক মান এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো সন্দেহভাজন গ্রাহকের এক দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ লেনদেন হলে সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানিকে সেই তথ্য বিএফআইইউতে দাখিল করতে হবে। নগদ লেনদেনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট তথ্য অন্তত পাঁচ বছর সংরক্ষণ করতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে গ্রাহকের ঝুঁকি বিবেচনায় পরিচিতি যাচাইয়ের (সিডিডি) ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীন উৎস থেকে পাওয়া সঠিক তথ্য, উপাত্ত ও নথিপত্রের ভিত্তিতে গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। সন্দেহভাজন গ্রাহকের অর্থের উৎস যাচাইয়ের পাশাপাশি বীমা পলিসি-সংক্রান্ত তথ্য ও লেনদেন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

বিশেষ করে পলিসি নবায়ন ও আর্থিক লেনদেনের সময় মানিলন্ডারিং বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের সন্দেহ দেখা দিলে নজরদারি বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহক তথ্য গোপন করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। সন্দেহজনক লেনদেন বা কার্যক্রম যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

প্রতিটি বীমা প্রতিষ্ঠানকে গ্রাহকের পরিচিতি ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। গ্রাহকের পক্ষে অন্য কেউ পলিসি পরিচালনা করলে বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপন করলে ওই ব্যক্তি যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য তাঁর পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।

বিএফআইইউর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা নিষিদ্ধ ঘোষিত সত্তা বলতে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ১৮ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তফসিলভুক্ত ব্যক্তি বা সত্তাকে বোঝানো হয়েছে।

বৈদেশিক বাণিজ্য-সংক্রান্ত বীমার ক্ষেত্রে আমদানি-রপ্তানি চুক্তি বা ঋণপত্রের (এলসি) নম্বর, তারিখ, মূল্যমান, আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক দেশের নাম এবং পণ্যের বিবরণ যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনে শিপিং ডকুমেন্টসহ অন্যান্য দলিল ব্যাংকের রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।

প্রতিষ্ঠান বা সম্পত্তির বীমা পলিসির ক্ষেত্রে বীমা গ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণকারী শেয়ারহোল্ডার অথবা ২০ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ারের মালিক একক শেয়ারহোল্ডারকে প্রকৃত সুবিধাভোগী হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে।

এ ছাড়া ব্রোকার, ট্রাস্টি ও পেশাদার মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে গ্রাহকের পক্ষে পরিচালিত পলিসির ক্ষেত্রে আইনগত বৈধতা ও যথার্থতা যাচাই করে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। পুনঃবীমার ক্ষেত্রে মূল বীমাকৃত ব্যক্তি—যেখানে তাঁর পরিচয় জানা সম্ভব—এবং দাবিদারদের পরিচয় যাচাই করতে হবে। এর উদ্দেশ্য হলো, নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত কোনো ব্যক্তি বা সত্তার অর্থ যেন পুনঃবীমার প্রিমিয়ামের মাধ্যমে বীমা ব্যবস্থায় প্রবেশ করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করতে না পারে।

পলিসির আবেদনকারীর পরিচয় যাচাইয়ের জন্য নাম, পেশা, জন্মতারিখ, বিস্তারিত ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন সনদ, পাসপোর্ট নম্বর, ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঝুঁকি বিবেচনায় নিজস্ব নীতিমালা পর্যালোচনা করতে হবে। বীমা খাতকে সন্ত্রাসী অর্থায়নমুক্ত রাখতে বিদ্যমান আইন, বিধিমালা এবং বিএফআইইউর সময় সময় জারি করা সার্কুলার ও নির্দেশিকা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও পরিপালন নিশ্চিত করতে প্রতিটি বীমা প্রতিষ্ঠানকে প্রধান কার্যালয়ে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নেতৃত্বে ‘কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট’ গঠন করতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর