পাবনা: পাবনায় হঠাৎ করেই হামের প্রকোপ বেড়েছে। জেলার হাসপাতালগুলোতে ভর্তি আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। বর্তমানে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ২৫ জন হামের রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। গত সাতদিনে ভর্তি হয়েছেন ২৫ জন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত জেলায় মোট ১১৮ জন হামে আক্রান্ত হয়েছে।
বর্তমানে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ২৫ জন শিশুর বয়স ৩ থেকে ১২ মাসের মধ্যে। এছাড়া, মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক রোগীর বয়স ২২ ও ৩২ বছর।
এদিকে, রোগীর চাপ বাড়ায় শিশু ওয়ার্ডে চরম ভিড়ের সৃষ্টি হয়েছে। ৩৮ শয্যার এ ওয়ার্ডে প্রতিদিন ২০০’র বেশি রোগী ভর্তি থাকছে। একেকটি শয্যায় দুই থেকে তিনজন করে রোগী রাখা হচ্ছে। বারান্দার একটি কাঁচঘেরা কক্ষেও হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যেখানে শয্যা ও মেঝে মিলিয়ে একাধিক শিশু অবস্থান করছে।
পাবনা সদর উপজেলার দোগাছি গ্রামের বাসিন্দা স্মৃতি খাতুন জানান, তার চার মাস বয়সী মেয়ে ২৬ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি হয়। প্রথমে জ্বর ও ঠান্ডার উপসর্গ দেখা দেয়, পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ওঠে। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শিশুটির হামে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. রফিকুল হাসান বলেন, হাম একটি ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ, যা যেকোনো বয়সে হতে পারে। বর্তমানে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসায় বড় কোনো সংকট নেই। তবে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। হামের রোগীদের জন্য নতুন একটি ওয়ার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
জেলার সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রায় প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের রোগী ভর্তি হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৃথক আইসোলেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে ৯ মাস বা তার কম বয়সি শিশুর সংখ্যাই বেশি। টিকা নেওয়ার পরও সংক্রমণ বাড়ার কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।