Wednesday 07 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বিটিআরসিতে ভাঙচুরে এমআইওবির নিন্দা
হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফেরাতে কাজ করবে এনইআইআর

‎‎স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০০:০৬ | আপডেট: ৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০০:০৭

মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইওবি) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: ‎সম্প্রতি সরকার মোবাইল ফোন বেচাকেনা ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে চালু করেছে ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর)। এতদিন এই ব্যবস্থা না থাকায় অবৈধ আমদানি ও অনিয়ন্ত্রিত বেচাকেনার সুযোগে সরকার প্রতিবছর অন্তত পাঁচ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এনইআইআর কার্যকর হওয়ায় এখন সেই বিপুল অংকের রাজস্ব আদায়ের পথ সহজ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইওবি)-এর নেতারা।

‎মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘এনইআইআর–এর হাত ধরে শুরু হোক নিরাপদ বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরে মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইওবি)। এ সময় দেশের মোবাইল ফোন শিল্পে স্বচ্ছতা ফেরাতে ও ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) পদ্ধতি কার্যকর করার পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে এমআইওবি। সেইসঙ্গে এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বিটিআরসি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এনইআইআর ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হলে ২০৩০ সালের মধ্যে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে কমপক্ষে ১৫ হাজার কোটি টাকা। সেইসঙ্গে অবৈধ ও চোরাই পথে মোবাইল ফোন আমদানির লাগাম টানাও সম্ভব হবে। এতদিন এসব অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিবছর আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, যার কোনো নির্ভরযোগ্য হিসাবও ছিল না।

‎দেশের মোবাইল ফোন শিল্পে স্বচ্ছতা জোরদার, ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন (এমআইওবি) এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এমআইওবির সভাপতি জাকারিয়া শহীদ, কার্যনির্বাহী সদস্য জিয়া উদ্দিন চৌধুরী, কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, সদস্য সাইফুদ্দিন টিপু, সদস্য জহুরুল হক এবং ইমাম উদ্দিন প্রমুখ।

‎জাকারিয়া শহীদ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনইআইআর নিয়ে অনেক ধরনের ভুল তথ্য ও অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এতে মানুষ বিভ্রান্ত ও আতঙ্কিত হচ্ছে। যারা এনইআইআর চালুর বিপক্ষে, তারা ব্যক্তিস্বার্থের জন্য এমন তৎপরতায় জড়িত। অবৈধ উপায়ে মোবাইল ফোন আমদানি ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা সরকারের কর ফাঁকি সহ অন্তত চারটি আইন ভাঙছেন। অবৈধভাবে মোবাইল ফোনের ব্যবসা করা যায়, এমন নজির বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর আর কোথাও নেই। এর আগেও এনইআইআর চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। কিন্তু দুর্নীতির মাধ্যমে সেই উদ্যোগ বন্ধ করা হয়। এখন আবার এই প্রক্রিয়া বন্ধের জন্য অনেকে আন্দোলন করছেন। দেশের স্বার্থে এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানাই।’

‎জিয়া উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের মোবাইল ফোন বিক্রির পরিমাণ কম। উৎপাদনের পরিমাণ কম থাকায় মূল্য কমানো যায়নি। যদিও অন্য দেশে এসব মোবাইল ফোনের দাম কম। তবে বাংলাদেশে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো গেলে বিভিন্ন মডেলের মোবাইল ফোনের দাম আরও কমানো যাবে। এনইআইআর না থাকায় এত দিন এই সুযোগে মুনাফা অর্জন করেছিল বিভিন্ন ব্যক্তি–প্রতিষ্ঠান। এনইআইআর চালু থাকলে স্থানীয় বিনিয়োগের পাশাপাশি মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রিতে বাইরের বিনিয়োগ আরও বাড়বে।’

‎মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘এনইআইআর চালু না হলে শুধু অবৈধ মোবাইল ফোন আমদানি ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাই লাভবান হবেন। আর চালু থাকলে সরকার রাজস্ব পাবে। মানুষের নিরাপত্তা বাড়বে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর