ঢাকা: দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। নিজস্ব নেটওয়ার্ক টাওয়ার বা অবকাঠামো ছাড়াই অন্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মোবাইল সেবা দিতে যাচ্ছে তারা, যা প্রযুক্তি বিশ্বে ‘মোবাইল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটর’ (MVNO) হিসেবে পরিচিত।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এমভিএনও (MVNO) কী?
সাধারণত মোবাইল অপারেটরদের (যেমন- গ্রামীণফোন বা রবি) নিজস্ব টাওয়ার, তরঙ্গ এবং বিশাল অবকাঠামো থাকে। কিন্তু এমভিএনও মডেলে বিটিসিএল-এর নিজস্ব কোনো টাওয়ার থাকবে না। তারা অন্য প্রতিষ্ঠিত অপারেটরের নেটওয়ার্ক ভাড়া নিয়ে নিজেদের ব্র্যান্ড নামে সিম কার্ড, ভয়েস কল এবং ডেটা প্যাকেজ সাশ্রয়ী মূল্যে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেবে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে এই মডেলটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।
বিটিসিএল-এর প্রস্তুতি
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ইতিমধ্যে বিটিসিএল-কে পরীক্ষামূলকভাবে এমভিএনও কার্যক্রম চালানোর অনুমোদন দিয়েছে। বর্তমানে কারিগরি প্রস্তুতি চলছে এবং দ্রুতই এর পাইলট (পরীক্ষামূলক) প্রকল্প শুরু হবে।
গ্রাহকরা কী কী সুবিধা পাবেন?
বিটিসিএল এমভিএনও-এর মাধ্যমে গ্রাহকরা মূলত ভয়েস, ডেটা এবং বিনোদনের একীভূত সেবা পাবেন। এর মূল সুবিধাগুলো হলো:
সিমলেস সেবা: ভয়েস কল, ইন্টারনেট এবং ওটিটি (OTT) সেবার সমন্বয়।
সাশ্রয়ী প্যাকেজ: প্রথাগত অপারেটরদের তুলনায় কম খরচে আনলিমিটেড ভয়েস ও ডেটা ব্যবহারের সুযোগ।
আধুনিক ফিচার: একই প্যাকেজের আওতায় স্ট্রিমিং ও বিনোদনমূলক অ্যাপ ব্যবহারের সুবিধা।
বাংলাদেশে এটি একটি নতুন ধারণা যা দেশের টেলিকম নীতিমালার অংশ হিসেবে চালু হচ্ছে। এর ফলে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে গ্রাহকরা আরও উন্নত এবং সস্তা ডিজিটাল সেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।