ঢাকা: জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী সম্ভাবনাকে উৎসাহিত করতে রাজধানীতে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হলো ‘ইমাজেন ভেঞ্চারস ইয়ুথ চ্যালেঞ্জ ২০২৪-২৫’-এর জাতীয় পর্যায়ের ‘কমিউনিটি সলিউশন পিচ ডে’।
ইউনিসেফ বাংলাদেশ এবং জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে ‘স্বপ্নের সারথি’ প্রকল্পের আওতায় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) গুলশানের লেকশোর হোটেলে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এদিন গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে ১৬টি দলের মধ্যে তাদের সৃজনশীলতা ও সামাজিক প্রভাবের বিচারে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে খুলনা বিভাগের ‘টিম ইকো সেন্টিনেলস’। তারা বন্যাপ্রবণ এলাকার কৃষকদের সহায়তায় ‘ফ্লোটিং এগ্রিকালচার’ বা ভাসমান কৃষির মাধ্যমে জলবায়ু অভিযোজন ও টেকসই কৃষিতে উদ্ভাবনী সমাধান উপস্থাপন করে বিচারকদের মন জয় করে নেয়।
সারাদেশের আটটি বিভাগ থেকে কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে উঠে আসা সেরা ১৬টি তরুণ উদ্ভাবক দল এই চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয়। দিনব্যাপী এই আয়োজনে তরুণরা তাদের পরিবেশবান্ধব ও টেকসই সামাজিক উদ্যোগগুলো বিচারক প্যানেলের সামনে উপস্থাপন করেন। এটি ছিল বছরব্যাপী চলমান একটি প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ধাপ, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল বিভাগীয় বুটক্যাম্প, মেন্টরশিপ এবং সামাজিক উদ্ভাবন ইনকিউবেশন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, ‘আজকের এই পিচ ডে আপনাদের যাত্রার শেষ নয়; বরং এটি একটি সেতুবন্ধন। এটি উন্নত ইনকিউবেশন, বৈশ্বিক সুযোগ এবং সবুজ ও টেকসই ভ্যালু চেইনে তরুণদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের দিকে এগিয়ে যাওয়ার নতুন পথ।’
ইমাজেন ভেঞ্চারস-এর মেন্টর এবং গ্লোবাল বিজয়ী আবদুল্লাহ আল আরাফ বলেন, ‘এখান থেকেই জন্ম নিচ্ছে আগামী দিনের সামাজিক ও পরিবেশগত উদ্যোক্তারা।’ অন্যদিকে, জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার কামরুল কিবরিয়া অয়ন তরুণদের সৃজনশীলতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বিজয়ী দল ‘ইকো সেন্টিনেলস’ এখন একটি উন্নত ইনকিউবেশন পর্যায়ে প্রবেশ করবে। সেখানে তারা নিজেদের উদ্ভাবনকে আরও শানিত করবে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য প্রস্তুতি নেবে। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।