ঢাকা: দেশের সফটওয়্যার খাতের বাণিজ্যিক সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর আগামী নির্বাচনকে ঘিরে নতুন সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে সংগঠনটির অর্ধেকেরও বেশি সদস্য প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে চারটি ভিন্ন ক্যাটাগরির মোট ১ হাজার ৯৪৭টি কোম্পানি এবার ভোটাধিকার হারাচ্ছে। এর মধ্যে ৫৮০টি প্রতিষ্ঠানকে ‘ইনভ্যালিড’ বা অবৈধ এবং ১ হাজার ৩৬৭টি প্রতিষ্ঠানকে ‘কোয়ারেন্টাইন’ তালিকায় রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, এতে মোট সাধারণ সদস্যদের মধ্যে ভোটার তালিকার সহযোগী থেকে ৭১ শতাংশ, অ্যাফিলিয়েটে সাড়ে ৬৭ শতাংশ এবং ৬৬ শতাংশ করে সাধারণ ও ইন্টারন্যাশনাল সদস্য বাদ পড়েছেন। বেসিস এর দাফতরিক ওয়েবসাইট অনুযায়ী, সংগঠনটিতে মোট সদস্য আছেন ২ হাজার ৮৮২ জন। এদের মধ্যে ১ হাজার ৮৫৭ জন সাধারণ সদস্য, ৬৬৫ জন সহযোগী সদস্য, ৩৪৫ জন অ্যাফিলিয়েট এবং ইন্টারন্যশনালে আছেন ১৫ জন সদস্য।
আর চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, সাধারণ সদস্য থেকে ভোটার হয়েছেন মাত্র ৬২৬ জন। সহযোগী সদস্যদের মধ্যে ভোটার ১৯২ জন, অ্যাফিলিয়েটে ১১২ জন এবং ইন্টারন্যশনালে মাত্র পাঁচ জন। অর্থাৎ সাধারণ সদস্যদের মধ্য ১ হাজার ২৩১জন, সহযোগী থেকে ৪৭৩ জন, অ্যাফিলিয়েটে ২৩৩ জন এবং ইন্টারন্যাশনালে ১০ জন বাদ পড়েছেন।
গত ১৫ মে মধ্যরাতে বেসিসের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপর থেকে পুরো খাত জুড়েই তীব্র অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিযোগ, অত্যন্ত অস্পষ্ট ও অযৌক্তিক প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিয়ে এই বিপুল সংখ্যক উদ্যোক্তাকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। অনেকের দাবি, আপিল শুনানিতে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার পরও নথিপত্রে আপিল সাবমিট করা হয়নি লিখে তাদের আবেদন নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত চাঁদা পরিশোধ এবং সংগঠনের কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার পরও এভাবে নাম কেটে দেওয়াকে উদ্যোক্তারা বৈষম্যমূলক এবং অগণতান্ত্রিক বলে আখ্যা দিয়েছেন।
আইসিটি খাতের সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, নির্বাচনে বিশেষ কোনো পক্ষকে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দিতেই ভোটার তালিকায় এই ধরণের কারসাজি করা হয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অংশীজনরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত পুরো শিল্পখাতে তীব্র অনাস্থা ও বিভাজন তৈরি করছে, যা বেসিসের মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশাদার সংগঠনের ভাবমূর্তিকে চরম সংকটে ফেলেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বৈধ সদস্যদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ আইসিটি উদ্যোক্তারা।