মার্কিন সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে আটক। তার জায়গায় তার এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। খবর আল জাজিরা।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক সংসদীয় অধিবেশনে ডেলসি শপথ গ্রহণ করেন। ২০১৮ সাল থেকে তিনি ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
সরকারের অনুগতদের নিয়ে গঠিত আইনসভার সামনে ভাষণ দেওয়ার সময়, রদ্রিগেজ মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেফতার এবং অপসারণের জন্য সামরিক আক্রমণের বিরুদ্ধে তার বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করেন।
৫৬ বছর বয়সী রদ্রিগেজ সংসদে বলেন,‘জিম্মি করে রাখা রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো এবং ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসের অপহরণের ঘটনায় আমি দু:খ প্রকাশ করছি। অবৈধ সামরিক আগ্রাসনের বেদনা নিয়ে আমি শপথ নিচ্ছি।’
এ সময় তিনি দেশের শান্তি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার করে বলেন, ‘আমাদের জনগণের শান্তি, আধ্যাত্মিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক প্রশান্তি নিশ্চিত করার জন্য আমি অক্লান্ত পরিশ্রম করার শপথ নিচ্ছি।’
সংসদীয় অধিবেশনে মাদুরোর ছেলেও উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার বাবা-মায়ের ফিরে আসার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় মাদুরো ও দেলসির সমর্থনে কয়েক হাজার মানুষ ভেনেজুয়েলার পার্লামেন্ট ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
রদ্রিগেজ যখন শপথ নিচ্ছেন ঠিক তখন নিউইয়র্কের একটি আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে মাদুরো আইনি লড়াই লড়ছেন। নিউইয়র্কের আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে নিকোলাস মাদুরো বলেন, ‘আমি একজন সজ্জন ব্যক্তি। আমি এখনো আমার দেশের প্রেসিডেন্ট।’ এ সময় নিজেকে ‘অপহৃত’ এবং ‘যুদ্ধবন্দী’ হিসেবেও দাবি করেন তিনি। তার বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদের চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে মাদুরোকে আটকের ঘটনায় জাতিসংঘে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মনকাদা এ ঘটনাকে ‘অবৈধ সশস্ত্র হামলা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এই অভিযানকে সমর্থন করে বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি ভান্ডার একজন ‘পলাতক অপরাধীর’ হাতে ছেড়ে দেওয়া যায় না।