ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। তেল বিক্রির অর্থ কোথায় ও কীভাবে ব্যয় হবে, সেই সিদ্ধান্তও নেবে মার্কিন প্রশাসন।
মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার তেল ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে। এসব বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন আন্তর্জাতিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। পরে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার জনগণের ‘কল্যাণে’ এই অর্থ ব্যয় করা হবে বলে জানানো হলেও ব্যয়ের নির্দিষ্ট খাত উল্লেখ করা হয়নি।
প্রাথমিকভাবে ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিক্রির মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে, যার আর্থিক মূল্য আনুমানিক ২০০ কোটি মার্কিন ডলার। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকাল চলবে।
এর কয়েক ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, নতুন এই তেল চুক্তি থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে ভেনেজুয়েলা শুধু মার্কিন তৈরি পণ্যই কিনবে। এসব পণ্যের মধ্যে কৃষিপণ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নের যন্ত্রপাতি থাকবে।
গত শনিবার ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার হয়। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলেও ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদের ব্যবস্থাপনা নিজেদের হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
এদিকে মার্কিন পদক্ষেপ নিয়ে কংগ্রেসে বিতর্ক চলছে। রিপাবলিকানরা উদ্যোগকে সমর্থন করলেও ডেমোক্র্যাটরা অভিযানের সময়সীমা, ব্যয় ও সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও অনিশ্চিত। মাদুরোর আটকের পর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব নিলেও দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথ এখনো স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকদের মতে, এ ক্ষেত্রে ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনীর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।