ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এসময় খামেনি বিক্ষোভকারীদের ‘ভাঙচুরকারীদের দল’ বলে কটূক্তি করেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সংক্ষিপ্ত ভাষণে তিনি বলেন, ‘বিক্ষোভকারীরা অন্য দেশের প্রেসিডেন্টকে খুশি করতে নিজেরাই নিজেদের রাস্তা নষ্ট করছে।’
এই ভাষণে তিনি আরও বলেন, ‘তেহরান এবং অন্যান্য জায়গা থেকে একদল ভাঙচুরকারী বেরিয়ে এসেছেন, যারা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে খুশি করার জন্য তাদের নিজের দেশের ভবন ধ্বংস করছেন।’
এই আন্দোলনকে অযৌক্তিক দাবি করে তিনি ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তিনি (প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প) আপনাদের মতো দাঙ্গাবাজদের সমর্থন করেন, যারা দেশের জন্য ক্ষতিকর। যদি তিনি এতটাই সক্ষম হন, তাহলে তার নিজের দেশ চালানো উচিত।’
১৯৮৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা ইরানি নেতা আরও বলেন,‘একদল অনভিজ্ঞ এবং অসাবধান লোক তাকে বিশ্বাস করে এবং তার ইচ্ছানুযায়ী কাজ করে। তারা তাকে খুশি করার জন্য ডাস্টবিনে পর্যন্ত আগুন ধরিয়ে দেয়। ট্রাম্পের হাত ১২ দিনের যুদ্ধে শহিদ এক হাজারেরও বেশি ইরানিদের রক্তে রঞ্জিত।’
খামেনি কখনও পিছু হটবেন না উল্লেখ করে বলেন, ‘সবাইকে জানাতে হবে যে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র কয়েক লক্ষ সম্মানিত মানুষের রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতায় এসেছে এবং যারা এটি অস্বীকার করে তাদের সামনে এটি পিছু হটবে না।’
এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত থেকে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করে। ইরানের নির্বাসিত স্বঘোষিত ‘যুবরাজ’ রেজা পাহলভিও ইরানিদের রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানান।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও আন্তর্জাতিক টেলিফোন যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা আগুন জ্বালিয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন। রাস্তায় ভাঙাচোরা জিনিসপত্র পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
দীর্ঘ নীরবতার পর শুক্রবার থেকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিক্ষোভ নিয়ে খবর প্রচার শুরু করে। সেখানে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘সন্ত্রাসী এজেন্টরা’ অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা ছড়িয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম হতাহতের কথা স্বীকার করলেও বিস্তারিত জানায়নি।
খামেনির ভাষণের সময় উপস্থিত জনতা ‘যুক্তরাষ্ট্রের ধ্বংস চাই’ বলে স্লোগান দেন। তিনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির (এইচআরএএনএ) তথ্যমতে, এ পর্যন্ত সহিংসতায় অন্তত ৪২ জন নিহত এবং ২ হাজার ২৭০ জনের বেশি মানুষ আটক হয়েছেন।
আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালায়, তবে তিনি হস্তক্ষেপ করবেন। বৃহস্পতিবার তিনি সেই হুমকির পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ‘ওদের (ইরানের সরকারের) অবস্থা খুব খারাপ। আমি তাদের জানিয়ে দিয়েছি, যদি তারা মানুষ হত্যা শুরু করে, তবে আমরা তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে আঘাত হানব।’