Saturday 10 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সিরিয়ায় সংঘর্ষ
যুদ্ধবিরতি ঘোষণা পরও আলেপ্পো ত্যাগে অস্বীকৃতি কুর্দি যোদ্ধাদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৯ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:০৬ | আপডেট: ৯ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:১৩

সিরিয়ার রাক্কায় এসডিএফ যোদ্ধারা পাহারা দিচ্ছে। ছবি: এপি

সিরিয়ায় সংঘর্ষ

যুদ্ধবিরতি ঘোষণা পরও আলেপ্পো ত্যাগে অস্বীকৃতি কুর্দি যোদ্ধাদের

কুর্দি যোদ্ধাদের সঙ্গে কয়েক দিন ধরে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যোদ্ধাদের আলেপ্পো ছেড়ে চলে যেতে বলেছিল সিরিয়া সরকার। তবে কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফ বাহিনী আলেপ্পো ত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

আল জাজিজার খবরে বলা হয়েছে, আলেপ্পোর কয়েকটি এলাকায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর কুর্দি যোদ্ধাদের সকাল ৯টা নাগাদ ওই সব এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছিল। তবে এসডিএফ যোদ্ধারা আলেপ্পোর আশরাফিহ এবং শেখ মাকসুদ এলাকা ত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তারা সেখানে অবস্থান করে তাদের ঘিরে থাকা সিরিয়ান সেনাবাহিনীকে ‘প্রতিরোধ’ করার ইচ্ছা প্রকাশ করছে।

বিজ্ঞাপন

সিরিয়ার আলেপ্পোর কুর্দি কাউন্সিলগুলো জানিয়েছে, তারা এসডিএফ বাহিনী এবং সিরিয়ার সরকারি যোদ্ধাদের মধ্যে কয়েকদিন ধরে চলা লড়াইয়ের অবসান ঘটাতে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলো খালি করবে না।

সিরিয়ার কুর্দি বাহিনীর প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আশরাফিহ এবং শেখ মাকসুদ জেলা ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান এবং আত্মসমর্পণের আহ্বানের পরিবর্তে তারা এসব এলাকা রক্ষা করবে।

একটি সরকারি সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে, সিরিয়ার সেনাবাহিনী আলেপ্পোর শেখ মাকসুদ ত্যাগ করার জন্য এসডিএফ বাহিনীকে নতুন সময়সীমা দিয়েছে।

সিরিয়ার কর্মকর্তারা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, আলেপ্পোর যেসব এলাকায় লড়াই চলছে সেখান থেকে এসডিএফ যোদ্ধাদের সরিয়ে নিতে প্রায় ৫০টি বাস পাঠানো হয়েছে। তবে সংবাদমাধ্যমটির আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলেপ্পোর শেখ মাকসুদ এলাকা থেকে এসডিএফ যোদ্ধাদের ছাড়াই বাসগুলো ফেরত এসেছে।

সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আলেপ্পোর আশরাফিয়া, শেখ মাকসুদ এবং বানি জায়েদ এলাকায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনানুষ্ঠানিকভাবে বাড়িয়েছে।

সিরিয়ার মন্ত্রণালয় বলেছে, যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়া বেসামরিক নাগরিকেরা যেন নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশে ফিরে গিয়ে স্বাভাবিক জীবন পেতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই এ যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য।

আলেপ্পোর গভর্নর আজ্জাম আলগারিব সরকারি সংবাদ সংস্থা সানাকে বলেছেন, তিনি আশরাফিয়েহ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেছেন।

এর আগে, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সরকারি বাহিনী আলেপ্পোতে কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফ বাহিনীর সঙ্গে লড়াই শুরু করার পর থেকে বেসামরিক নাগরিকসহ কমপক্ষে ২২ জন নিহত হয়েছেন।

এ সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে আশরাফিয়া এবং শেখ মাকসুদে ১,০০,০০০ এরও বেশি বেসামরিক লোক তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে।

এসডিএফ সিরিয়ার তেলসম্পদে সমৃদ্ধ উত্তর ও উত্তর–পূর্ব অঞ্চলগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে। ২০১৯ সালে সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর কাছ থেকে এলাকা পুনর্দখল করার ক্ষেত্রে এ বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

এদিকে কুর্দিদের প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীকে সিরীয় সরকারের সঙ্গে একীভূত করার চুক্তি কার্যকর করা বন্ধ বা স্থগিত রয়েছে। এর মধ্যেই মঙ্গলবার থেকে সরকারি বাহিনী ও কুর্দি যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ শুরুর দায় দুই পক্ষই একে অপরের ওপর চাপাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর