সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র বাহিনী। গত ডিসেম্বরে মার্কিন সেনাদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার পর ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’ আরও জোরদার করার অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তাদের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “আমরা পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই, আপনি যদি আমাদের সেনাদের ক্ষতি করেন, তাহলে আমরা আপনাকে খুঁজে বের করবো এবং পৃথিবীর যেখানেই থাকুন না কেন, হত্যা করবো। বিচার এড়াতে যতই চেষ্টা করুন, তা কাজে আসবে না।”
কর্মকর্তারা জানান, অভিযানে ৩৫টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে ৯০টিরও বেশি প্রিসিশন অস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এই অভিযানে ২০টির বেশি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন অংশ নেয়। এর মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের এফ–১৫ই, এ–১০, এসি–১৩০জে ও এমকিউ–৯ ড্রোন, পাশাপাশি জর্ডানের এফ–১৬ যুদ্ধবিমান।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আইএসের হামলার জবাব দিতে বর্তমান প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা জোর দিয়ে উল্লেখ করে অভিযানের ঘোষণা দিতে গিয়ে বলেছিলেন, “এটি কোনো যুদ্ধের সূচনা নয়, এটি প্রতিশোধের ঘোষণা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র তার জনগণকে রক্ষায় কখনোই দ্বিধা করবে না, কখনো পিছুও হটবে না।”
গত ডিসেম্বর পালমিরায় আইএসের এক অতর্কিত হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও একজন বেসামরিক দোভাষী নিহত হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন প্রথম ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’ ঘোষণা করে। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র মোট ১১টি অভিযান চালায়, সেসময় প্রায় ২৫ জন আইএস সদস্য নিহত বা আটক হন।