Monday 12 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

গাজায় প্রচণ্ড শীতে জমে ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৪৫ | আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:১১

ঠাণ্ডায় জমে মরে যাওয়া একটি ফিলিস্তিনি শিশুর জন্য তার মা কাঁদছেন। ছবি: রয়টার্স

গাজায় গণহত্যার সর্বশেষ শিকারে পরিণত হয়েছে দুই মাস বয়সী শিশু মোহাম্মদ আবু হারবিদ। তীব্র শীতে ঠান্ডায় জমে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য তথ্য পরিচালক জাহের আল-ওয়াহিদি সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আল-রানতিসি শিশু হাসপাতালে তীব্র হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

হারবিদের মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ঠান্ডায় জমে মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা দাঁড়াল চারে। এবং ২০২৩ সালের অক্টোবরে গণহত্যা শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট নিহত শিশুর সংখ্যা ১২ জন।

বিজ্ঞাপন

সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের ফলে গাজার উপকূলীয় অঞ্চলে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং হিমশীতল বাতাস বইছে। প্রচণ্ড ঠান্ডায় হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত পরিবার এক বিপর্যয়কর মানবিক জরুরি অবস্থার মুখোমুখি হচ্ছে, যার সর্বোচ্চ মূল্য দিতে হচ্ছে হতভাগা পরিবারগুলোকে।

নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-আওদা হাসপাতালে নবজাতকদের জন্য একটি নতুন ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। এখানকার ডাক্তাররা শিশুদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠিত এই ওয়ার্ডে প্রতিদিন প্রায় ১৭ জন শিশু ভর্তি হয়। এই ওয়ার্ডের একজন চিকিৎসক আহমেদ আবু শায়রা বলেন, তিনি এমন এক পরিস্থিতিতে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন যেখানে তার হাত পা বাঁধা।

তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক সমস্যার মুখোমুখি হই, যার মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব। অনেক সময় এমন হয় কিছু ইনকিউবেটর ব্যাটারি ছাড়াই আমাদের কাছে আসে, কারণ ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ইনকিউবেটরগুলোর ব্যাটারি হাসপাতালে আনতে বাধা দেয়।’

এছাড়াও আছে লোডশেডিংয়ের সমস্যা। আল জাজিরার সাংবাদিক হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় দেখেছেন, এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে পাঁচবারেরও বেশি বিদ্যুৎ চলে যায়।

লোডশেডিং নিয়ে আবু শায়রা বলেন, ‘আমরা একজন শিশুর জন্য যখনই একটা নির্দিষ্ট তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করি, ঠিক তখনই বিদ্যুৎ চলে যায়। ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে হাসপাতালের ব্যাটারিগুলো ব্যবহার করা যায় না। জেনারেটর বন্ধ হয়ে গেলে সাথে সাথে ইনকিউবেটরগুলো ঠান্ডা হয়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, এসব ছাড়াও আছে ওষুধের ঘাটতি। সব মিলিয়ে এখানে সঠিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া প্রায় অসম্ভব।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর