জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ বলেছেন, ইরান সরকারের শেষ দিন ও সপ্তাহগুলো দেখছেন তারা। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিবিসির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘যখন একটি সরকার শুধু সহিংসতা দিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখে, তখন আসলে এর কার্যকারিতা শেষ। জনগণ এখন সরকারের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে।’
এদিকে ইরানে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশ নিজ দেশে ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, রাষ্ট্রদূতকে তলব করে বিক্ষোভে দমন পীড়নের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।
ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ইরান সরকার নীরবে হত্যা ও দমন চালানোর জন্যই ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে।
তেহরানের খোলা বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের মূল্য ব্যাপক পড়ে যাওয়ায় তেহরানের দোকানিরা রাস্তায় নেমে আসলে বিক্ষোভের সূচনা হয়।
অন্যদিকে, ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এখনো ফাটল ধরার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। সরকার বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি একটি ‘দ্বিমুখী নীতি’ গ্রহণ করেছে। সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেছেন, ‘সরকার নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিক্ষোভকারী—উভয়কেই নিজের সন্তান মনে করে। আমরা তাদের কথা শোনার চেষ্টা করছি, যদিও কেউ কেউ বিক্ষোভকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে।’
বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তথ্য প্রবাহে বাধা দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ‘এইচআরএএনএ’ এর তথ্যমতে, এ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার ৭২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও নিহতের সংখ্যা ২০০০ বলা হচ্ছে, বিরোধী দলগুলোর দাবি এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি। ভিডিও ফুটেজে রাতে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও গোলাগুলির চিত্র দেখা গেছে।
এত উত্তেজনার মধ্যেও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনার পথ এখনো বন্ধ হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক পদক্ষেপের কথা বললেও হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, কূটনীতিই প্রেসিডেন্টের প্রথম পছন্দ।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও নিশ্চিত করেছেন, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে তার যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং ওয়াশিংটনের দেওয়া কিছু প্রস্তাব তারা খতিয়ে দেখছেন।